স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হালিতলা বারৈকান্দি গ্রামের শত বছরের পুরনো পঞ্চায়েতি কবরস্থানের ৭ শতক ভূমি বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কবরস্থানের ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ, দান, বিক্রি, হস্তান্তর ও শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বারৈকান্দি গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মোঃ জামাল মিয়া। তিনি এলাকাবাসী ও জনস্বার্থের পক্ষে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এতে একই গ্রামের মৃত জাহির উদ্দিনের পুত্র আবু সুফিয়ান মাস্টার (৪৫), আলতাব উদ্দিন (৭৩) ও আছমান উদ্দিন (৬৯), মৃত এবাদুল হকের পুত্র মাওলানা নুরুল হক (৪৮), মৃত আঃ ছমেদের পুত্র মাসুক মিয়া (৪২) ও বুরহান উদ্দিন (৬০), মৃত আঃ হকের পুত্র মাওলানা আশিকুল হক (৬২), মৃত মনাফ উল্লার পুত্র লিটন মিয়া (৩৯) এবং মৃত আনোয়ার মিয়ার পুত্র শাহজান আলীকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হালিতলা মৌজার ওই ৭ শতক ভূমি যুগ যুগ ধরে এলাকার জনসাধারণ কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এসএ রেকর্ডে ভূমিটির শ্রেণি কবরস্থান থাকায় বর্তমান আরএস জরিপে সম্পূর্ণ কবরস্থান জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ১ থেকে ৩ নম্বর বিবাদীর নামে ৭ শতক ভূমি রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি এলাকাবাসীর অজান্তে থেকে যায়। পরে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল ৩টার দিকে বিবাদীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ লাখ টাকায় কবরস্থানের ওই ভূমি বিক্রি করে অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে কবরস্থান থেকে ১ নম্বর বিবাদীর সৎ ভাই আরজান আলীকে উচ্ছেদ করে কবরস্থান পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া ৪ নম্বর বিবাদীর বাবা এবাদুল হক মেম্বার থাকাকালে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কবরস্থানের মাটি কেটে সড়ক নির্মাণ করেন। এলাকাবাসীর বাধার মুখে পরে মাটি ভরাট করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কতিপয় বিবাদীগণের বিরুদ্ধে গত ৩ আগস্ট আলফাজ মিয়া বাদী হয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৬৯০/২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কয়েকজন বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, কবরস্থানের ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। এ কারণে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভূমিটিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, দান, বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা শ্রেণি পরিবর্তন না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে কবরস্থান বিক্রয়ের দলিলের ১৩ ফর্দ ফটোকপি এবং আরএস পর্চার ফটোকপি ১ ফর্দ সংযুক্ত করা হয়েছে।
তপশীল অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হালিতলা মৌজার জেএল নং-৮৭/৯০, এসএ খতিয়ান নং-৫৫১, আরএস খতিয়ান নং-৮৯৯, এসএ দাগ নং ১৩৭৭, আরএস দাগ নং-১৮৪৪ এর মোট ৭ শতক কবরস্থান রকম ভূমি নিয়ে অভিযোগটি করা হয়েছে।