মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

নবীগঞ্জে ঋষি সম্প্রদায়ের ১১ পরিবার সমস্যা জর্জরিত

  • আপডেট টাইম রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০১৭
  • ৮৯১ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নানা সমস্যার বেড়াজালে বন্দি নবীগঞ্জের মুচি সম্প্রদায়ের পরিবার। এদের মধ্যে অনেকেই এখন পৈত্রিক এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার অভাব, সামাজিকভাবে নিম্ন মর্যাদা, বিদ্যুৎ সমস্যা, স্যানিটেশন সমস্যা, লেখাপড়ার সুবিধা না পাওয়া, মুজুরী বৈষম্যসহ নানামুখী সমস্যা প্রতিনিয়তই তাদের টিকে থাকতে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। তাদের এই দুরাবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। তাদের পূর্নবাসনের জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন এ সম্প্রদায়ের লোকজন।
pic-2

pic-3সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারের পাশে উলুকান্দি গ্রামে বৃটিশ আমল থেকে বসবাস করে আসছেন মুচি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি পরিবার। আর এ থেকেই পল্লীর নামকরন করা হয় মুচি বাড়ী। এখন মুচি বাড়ী নামেই পরিচিত।
মাত্র ১৩ শতক জায়গার মধ্যে অনেকটা গাদাগাদি করেই কোন রকম ভাবেই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন ১১টি পরিবারের শতাধিক লোকজন। এর মধ্যে তাদের অনেক জায়গাই স্থানীয় কিছু লোকের দখলে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সম্প্রদায়ের লোকজন।
মুচি সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তারা বিদ্যুতের আলোর মুখ দেখেননি। ফলে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্র“তি দিয়ে ভোট আদায় করেন বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন প্রার্থীরা। কিন্তু ভোটের পর তাদের চেহারা আর দেখা যায়না বলেও জানান মুচিরা। এমনকি নির্বাচিত হলেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দিবেন বলেও আশ্বাস দেন প্রার্থীরা। এভাবেই চলছে যুগের পর যুগ। তবুও বিদ্যুতের আলোর দেখা নেই। অন্ধাকারেই করছেন বসবাস। হারিকেন আর কুপি বাতিই যেন তাদের জন্য আলোর মুখ।
এছাড়াও মুচিপাড়ার স্যানিটেশন ব্যবস্থাও রয়েছে খুবই নাজুক। ১১টি পরিবার মিলে রিং-স্লাব দিয়ে কোনমতে ২টি টয়লেট তৈরী করে তা ব্যবহার করে শতাধিক লোকজন।
মুচিপাড়ার শিশুরা বেশীর ভাগই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে বিভিন্ন কাজ করে তারা। ফলে তাদের স্কুলে যাওয়ার সময় হয় না। আবার অনেকেই পিতার কাজে সহযোগীতা করেন। আর এ কারণে স্কুলে বা পড়া লেখার সময় নেই তাদের।
মুচিদের জন্ম সূত্র পেশায়- বিভিন্ন পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয়, জুতা সেলাই করাই প্রধান কাজ। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তারা এ কাজ করে। সারাদিন কাজ করে তারা দেড়/দু’শ টাকার বেশী আয় করতে পারে না। ফলে তাদের পরিবারে আর্থিক অনটন লেগেই থাকে। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে চলছে তাদের জীবন যাত্রা। এমনটাই জানালেন আউশকান্দি ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামের মুচি বাড়ীতে বসবাসকারী, লাখপতি রবি দাশ, সুবল রবি দাশ, বাবুল রবি দাশ, লক্ষন রবি দাশ সহ অনেকেই।
তাদের সাথে কথা বলে জানা য়ায়, মুচিদের বিবাহ, আত্মীয়তা, শালিশ-বিচার নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যেই হয়ে থাকে। তাদের বিবাহের কোন নথি বা রেজিষ্ট্রেশন হয় না। ফলে বাল্য বিয়ে, বহুবিবাহ, যৌতুক সমস্যা এদের যেন নিত্যসঙ্গী হয়েই আছে। এ ধরনের নানামূখী সমস্যার বেড়াজালে আটকে মুচি সম্প্রদায় আজও অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এমনিভাবে শহরের আশপাশে নানা স্থানে অবস্থান করছে মুছি সম্প্রদায়ের লোকজন। তাদের অনেকেই ভিটেবাড়িহীন। অন্যের জায়গায় কোন রকম মাথা গুজার ঠাই নিয়েছে। পেশাগত আয় দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দু’মুটো ভাত জোগার করাও তাদের জন্য অনেক কষ্টসাধ্য। প্রাচীন ও প্রয়োজনীয় এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে এদের সমস্যাবলীর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সমাজের সচেতন ও সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সচেতন মহলের লোকজন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com