বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

দৈনিক এক্সপ্রেস পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ॥ ভাগ্য খুলছে নবীগঞ্জের রহিমার খাতুনের!

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৫৯১ বা পড়া হয়েছে

কিবরিয়া চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী এক সাহসী জনপ্রতিনিধি রহিমা খাতুন-এর জীবনযুদ্ধের এক করুণ কাহিনী প্রকাশ হয় স্থানীয় পাঠক প্রিয় দৈনিক হবিগঞ্জের জনতার এক্সপ্রেস প্রত্রিকায় ও জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে। এই সংবাদে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা জুড়ে চায়ের ষ্টল থেকে শুরু করে প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনের মুখে মুখে আলোচনার বিষয় মেম্বার রহিমা খাতুন। রীতিমত সবার নজরে এখন জীবনযুদ্ধে পরাজিত নির্বাচিত মহিলা মেম্বার রহিমা খাতুন। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে রহিমা খাতুনের খোজ-খবর নিচ্ছেন রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনি সহ উপজেলা প্রশাসনের লোকজন। শুধু তাই নয়, জীবনযুদ্ধে পরাজিত রহিমা খাতুনকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, গণমানুষ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেইস বুকে সংবাদের লিং ও পুটেজ দিয়ে মন্তব্য সহ রহিমা খাতুনকে কি ভাবে সাহায্য করা যায় এমন আলোচনা করেছেন অনেকে।
ইউপি সদস্য রহিমা খাতুনকে নিয়ে ফেইবুকের কিছু স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। নবীগঞ্জের কৃতিন্তান লন্ডন প্রবাসী কবি ও গীতিকার কুতুব আফতাব ফেইসবুকে সংবাদের লিং শেয়ার করে লিখেছেন, কেউ কি আছেন এই মহিলা মেম্বারকে বাড়ি করে দিবেন। কোন ব্যক্তি? কোন চ্যারেটি সংগঠন? এর পরই ফেইসবুকে তোলপাড় শুরু হয়। আরেক প্রবাসী মোঃ সাইফুল ইসলাম কুতুব আফতাবকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, নবীগঞ্জের আলো বাতাসে বড় হওয়ায় আপনার প্রতি অনুরোধ থাকলো একটা সিস্টেম তৈরি করেন যেখানে আমরা যারা প্রবাসে আছি যাতে হেল্প করতে পারি। মাধ্যম পাঠিয়ে অন্তত একটা ব্যাংক একাউন্টের ব্যবস্থা করে দেন। কথা দিলাম পাশে থাকবো…। লন্ডন প্রবাসী মোহাম্মদ হাদিছ মিয়া লিখেছেন, বিষয়টা দুঃখজনক, তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হল আমাদের সম্মানিত জনপ্রতিনিধি যারা আছেন, উনারা সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন, এবং এই মহিলা মেন্বারকে যে কোন ভাবে সহযোগিতা করতে পারেন। জনপ্রিয় বাউল শিল্পী ইকরাম উদ্দিন লিখেছেন, উনার (রহিমা খাতুনের) প্রতি রইলো হাজার সালাম। ক্বারী হাছান আলী লিখেছেন, ধন্যবাদ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এই সংরক্ষিত মহিলা সদস্যার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য। ইউপি সদস্য রহিমা খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার (তিনির) খোজঁ খবর নিচ্ছেন ও সরকারের পক্ষ থেকে বাড়িঘর করে দেওয়ার ব্যবস্তা করছেন। ইউপি সদস্য রহিমা বেগমকে পূর্নবাসন করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মকদুছ মিয়ার স্ত্রী। রহিমা খাতুনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেমেয়ে বড় হওয়ার আগেই বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্বামী। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনম ব্যক্তি ছিলেন। অসুস্থ স্বামী, ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা রহিমা অসীম সাহস আর দৃঢ়প্রত্যয়ে নেমে পড়েন ঘটকের কাজে। মাসে দু-একটা বিয়ে সাজিয়ে চলত তার চার সদস্যের সংসার। দু-এক বেলা পান্তাাভাত জুটলেও জুটেনি মাথা গোঁজার জায়গা। রহিমা খাতুনের স্বামীর বাড়িঘর না থাকায় মহাসড়কের ব্রিজের নিচে বসবাস করে আসছেন ১২ বছর ধরে! দিন রাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচলা করছে রহিমা ও তার পরিবারের মাথার ওপর দিয়ে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ সৈয়দপুরের অদূরে জালালপুরে ব্রিজের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছেন রহিমা খাতুন। জানতে চাইলে রহিমা খাতুন জানান, ১২ বছর ধরে ব্রিজের নিচেই বসবাস করে আসছি। একের পর এক বলতে থাকেন তার সংগ্রামী জীবনকাহিনী। তিনি বলেন, মধ্যে বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে আসতেই নেমে পড়ি জীবনযুদ্ধে, স্বামী-সন্তানসহ। শুরু থেকেই কোনো উপায় না পেয়ে নেমে যাই ঘটকালিতে। এ থেকে দেখা সাক্ষাৎ হতো এলাকার শিক্ষিত মহিলাদের সাথে। গ্রাম এলাকার লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আর বিভিন্ন গ্রামের মহিলা ও পুরুষের অনুপ্রেরণায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নির্বাচনে বিজয়ীও হন। আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজো পরাজিত রহিমা। কিন্তু এখন দেখছেন সম্ভাবনার আলো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com