শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা আজ বানিয়াচং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন দীঘলবাগে কৃষকদল নেতা জামাল আ.লীগ নেতা শাহীদের বিরুদ্ধে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর দখলের অভিযোগ শহরের বিভিন্ন বাজারে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ নবীগঞ্জের চোখ হারানো আলিফের পরিবারের পাশে এনসিপি ॥ মায়ের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার বাহুবলের সাটিয়াজুরি বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ সমাবেশ মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভিকটিম উদ্ধার

অবশেষে পরীক্ষার সুযোগ পেলো বাহুবলে সেই ছাত্রী প্রধান শিক্ষককে শোকজ

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৫৫৩ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ অবশেষে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে গতকাল রোববার পরীক্ষা অংশ নিয়েছে ধর্ষণের শিকার হওয়া সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। এর আগে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে কারণে গত ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় ওই ছাত্রীকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সেই সাথে ইতোপূর্বে তাকে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় বাহুবল উপজেলার শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ূব আলীকে শোকজ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার বিকেলে তাকে শোকজ নোটিশ করেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম। আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এবছরে ১৯ জুলাই ধর্ষণের শিকার হয় বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চিচিরকোট গ্রামের হরিধন চক্রবর্তীর কন্যা নতুনবাজার শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শান্তা চক্রবর্তী।
স্থানীয় সূত্রমতে গরীব শ্রমজীবী পরিবারের ওই ছাত্রীদের বাড়িতে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতো পার্শ্ববর্তী হিমারগাঁও গ্রামের সিদ্দিক আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৩)। সে ওই ছাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে ভাল বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। গত ১৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে ফাতেমা বেগম। পরে তাকে তোলে দেয় যশপাল গ্রামের মৃত হোসেন আলীর পুত্র জাহির হোসেন (৩৫) ও একই গ্রামের আজগর আলীর পুত্র সামছুদ্দিন প্রকাশ সামছু প্রকাশ সমশের উদ্দিন (৩২) এর হাতে। তারা সারা দিন একটি পিকআপ ভ্যান গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারস্থ সানি ফার্নিচার মার্ট নামক দোকানে রাত্রী যাপন করে। সেখানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ওই ছাত্রীকে অন্যত্র পাচারের চেষ্টাকালে বাজারের পাহারাদারের হাতে আটক হয়। এ ব্যাপারে ছাত্রীর পিতা বাহুবল মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দু’অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে ও পরে আদালতে চার্জসীট প্রদান করে। কিন্তু মূলধর্ষক এখনো পলাতক রয়েছে। এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীকে চলতি বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। উপরন্তু ছাত্রীটিকে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গতকাল দৈনিক হবিগঞ্জের জনতার এক্সপ্রেস পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল রোববার নিজে গাড়িতে করে নিয়ে এসে ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষককে শো-কজ করেন। রোববার বেলা পৌণে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম আলোচিত ওই ছাত্রীকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এবং তাকে ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল্লাহ, বাহুবল মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি নূরুল ইসলাম নূর, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি অলিউর রহমান অলি, স্থানীয় মেম্বার আলকাছ মিয়া।
এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ছাত্রীটির সাথে মানবিক দৃষ্টি দেখানোর কথা। উল্টো তার পরিবর্তে অমানবিক আচরণ করছেন প্রধান শিক্ষকসহ স্কুল কর্তৃপক্ষ। যার ফলে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আমি নিজে তাকে গাড়ি করে পরিক্ষার হলে নিয়ে গিয়েছি এবং সে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার পরেও যদি কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীর পরিক্ষা নিয়ে আর কোন ধরণের টালবাহানা করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই ছাত্রী ও তার বোনের পড়াশুনার বিষয়টি এখন থেকে উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করবে। এছাড়া যে পরীক্ষাগুলো (বাংলা ১ম ও ২য় পত্র এবং ইংরেজী ১ম ও ২য় পত্র) সে দিতে পারেনি সেগুলো পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় সম্পন্ন করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com