বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

ভাটির দেশে যাত্রা

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ৭১৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশেই ‘কোমেন’ এর প্রভাবে দিনভর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ছাতা ছাড়া ঘর থেকে বাহির হওয়াই মুশকিল। সেখানে নৌকা নিয়ে গভীর হাওড়ে নৌকা ভ্রমন কল্পনা বিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়। এই কল্পনাকেই হার মানিয়ে রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াইর সদস্যরা ভাটির দেশে যাত্রা করে নিজেদের অদম্য ইচ্ছার জয় করেছেন। শুধু নিজেদের ইচ্ছার জয়ই নয়। রিতিমত বউ বাচ্ছাকে নিয়েই ঢেউয়ের তালে নৌ-ভ্রমণ করে আনন্দঘন দিন অতিবাহিত করলেন রোটারিয়ানরা। শনিবার সকালে ঘুম ভেঙ্গে যখন সবাই দেখলেন বৃষ্টির ঘনঘটা। বিছানা ছাড়ার ইচ্ছা হচ্ছিল না কারও। এর মধ্যেই ফোনে ফোনে একজন অপরজনকে আহ্বান জানাতে থাকলে বৃষ্টির মাঝেই রোটারিয়ানরা স্ব-পরিবারে আসতে থাকেন কালার ডোবায়। সেখানে একতা-১ নৌকাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে যাত্রা শুরু করার। নৌকা ভ্রমনের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আগে থেকেই উপস্থিত থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ৯টার মধ্যে নৌকা ছাড়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১০টায় ক্লাব সেক্রেটারী তোফাজ্জল সোহেলের ঘোষনার পর লোকমান মাঝি নৌকা ভাসান হাওড়ে।
নৌকা যখন আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে গভীর হাওড়ে তখনই আবারও বৃষ্টিতে ছাদে থাকা সবাই নেমে যান ভেতের। বৃষ্টি থামলে খোলস থেকে বাহির হন সবাই। এরই মধ্যে নৌকা মাতিয়ে তুলেন রোটারিয়ন সৈয়দ বাকী ইকবাল। তার গান আর রসাত্বক পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে। এক পর্যায়ে সাইন্ড সিস্টেমে যখন বাজানো হয় গান বাকী ইকবালের নেতৃত্বে শুরু হয় তুমূল নাচ। এরই মাছে ক্লাব প্রেসিডেন্ট বর্তমান সময়ের জনপ্রিয়  সেলফি স্টিক নিয়ে যখন নৌকার ছাদে সেলফি তুলতে প্রস্তুতি নেন তখন মুহুর্তের মাঝেই সবাই সেখানে ভীড় জমান। একের পর এক সেলফি তুলতেই থাকেন তারা। এই মুহুর্তগুলো ছাড়াও হাওড়ের দৃশ্যগুলো ক্যামেরা বন্দি হতে থাকে শখের ছবিয়ালের আশিষ দাশ এবং রোটারিয়ান নোমান খানের ক্যামেরায়। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হানা দিলেও এই আনন্দ উৎসবের ছেদ পড়েনি খুব একটা। নৌকা ঘাটে আসার সময় ঘনিয়ে আসতে থাকলে আয়োজন করা হয় অংশগ্রহণকারী বাচ্ছাদের প্রতিযোগিতা। গান, ছড়া আর কবিতা আবৃত্তিতে ছোট্ট বন্ধুরা সবাইকে আনন্দ দেয়। মহিলাদের অনুভুতি প্রকাশের পালা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই নৌকা ভীড়ে ঘাটে। নৌকায় থাকা রান্নার জিনিস নামানো হয় জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সরকারী বৃন্দাবন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বৃন্দাবন দাসের বাড়ীর ঘাটলায়। বৃন্দাবন দাসের নাতি বিজন বিহারী দাস দায়িত্ব নেন সফরের সবছেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রান্না বান্নার।
রান্নার জিনিস নিয়ে বিজন বিহারী দাস ও বাবুর্চিদেরকে ব্যস্ত রেখে অংশগ্রহণকারীরা নেমে যান বিথঙ্গল আখড়ায়। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘুরে ফিরে দেখেন সবাই। এর পর আখড়ার সামনের শান বাধানো পুকুড়ে নেমে পড়েন ঘোসল করতে। সেখানে জলকেলী আর সেলফি তুলতে তুলতে কখন সময় চলে যাচ্ছিল তা বুঝতে পারেনি কেউ। যাত্রার বিলম্ভে রান্না বিলম্ভ হবে তাই চতুর প্রেসিডেন্ট সবাইকে পানিতে আনন্দে মাতিয়ে রাখেন। এর জন্য তিনি নিজেও ঝাপ দেন পানিতে।
একদল যখন পানিতে ব্যস্ত তখন ডা. জাবের এর নেতৃত্বে একদল পুকুরের এক পাশে গাছের মাঝে বাধা নেটের দোলনায় ঝুলতে চলে যান। দোলনায় ঝুলে ছবি তুলতে সেখানে রিতিমত লাইন লেগে যায়। এর মাঝেই প্রবাসী অতিথি জাকারিয়া চৌধুরীর বন্দুক নিয়ে পোজ দিতে সাবার মাঝে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আর দোলনায় ঝুলে বন্দুক হাতে সেন্ট্রি রেখে ছবি তুলতে আগ্রহের কমতি ছিলনা কারও। আর সেন্ট্রি হিসাবে নোমান খানের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
ঘরির কাটায় যখন বিকেল ৪টা। তখন ‘ভাটির দেশে যাত্রার ব্যানার নিয়ে আবারও শুরু হয় মহিলাদের স্তগিত অনুভুতি প্রকাশের পালা।  ডাঃ জাবের বিচারক হিসাবে ৩জনকে বিজয়ী ঘোষনার পর ছেলেদের অনূভূতি প্রকাশের শুরুতেই আবারও শুরু হয় বৃষ্টি। সবাই দৌড় দেন আখড়ায়। বৃষ্টি শেষে সবাই আবারও উঠেন নৌকায়। ৫টার দিকে রান্না শেষে নৌকায় খাবার উঠিয়ে শুরু হয় ফিরতি যাত্রা। নৌকাতেই পরিবেশন করা হয় খাবার। প্রথমে বাচ্চা এবং মহিলারা। এর পর রোটারিয়ান ও অতিথিরা খাবার গ্রহণ করেন। নৌকা যখন মাঝ হাওড়ে তখন সংক্ষিপ্ত করে শেষ করা হয় অনুষ্ঠান। শিশু, নারী ও পুরুষ বিভাগে ৩জন করে বিজয়ী হলেও পুরস্কারের আনন্দে সবাই বাড়ী ফিরেন। রাত সাড়ে ৭টায় এই পুরস্কারটি হাতে নিয়ে সবাই নৌকা থেকে নামেন। তারা আগামীতেও এ ধরনের আয়োজনের আবেদন রেখে যান। আর বলতে থাকেন সফল হয়েছে রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জ খোয়াইর ভাটির দেশে যাত্রার।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com