মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মাধবপুরে বোয়ালিয়া খালের উপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ॥ আতঙ্কে এলাকাবাসী নবীগঞ্জে অধ্যক্ষ হুমায়ুনকে শোকজ টিউশন ফি নিয়ে টালবাহানা, সরকারি নির্দেশনা অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগ হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ফনি ভুষন দাশ আর নেই নবীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নবীগঞ্জে বসতঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো “গানে গানে জুলাই” শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান বাহুবলে মাছের খামারে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার ॥ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা রিংগনকে হুমকিদাতা মানসিকভাবে অসুস্থ-পুলিশ র‌্যাবের অভিযানে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার ॥ স্কুলছাত্রী উদ্ধার

সবুজ পাহাড়ে মিনি গার্মেন্টস

  • আপডেট টাইম বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪
  • ৭৯১ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সবুজ পাহাড়ে মিনি গার্মেন্টস সৃষ্টিতে তাঁতের সাথে চলবে সেলাই মেশিন। চারদিকে পাহাড়। সবুজ আর সবুজ। আর এ সবুজ স্থানটি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা-বাগান ঘেঁষা বনবিভাগের  পুটিজুড়ি বনবিট এলাকায়। নাম কালিগজিয়া। এর ভেতরে আদিবাসীদের বসবাস। তাদের এ বসবাসেরস্থানটিকে বলা হয় ত্রিপুরা পুঞ্জি। যুগ যুগ ধরে এ পুঞ্জিতে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পুঞ্জির অনেক পুরুষ নানা ফসলের চাষাবাদে জড়িত। নারীরাও বসে নেই। তারা তাঁত ও সেলাই মেশিন দিয়ে কেউ কেউ তৈরি করছে বাটিক শাড়ি আবার কেউ অন্য জামা-কাপড়। আদিবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে তাঁতের পাশাপাশি ৫টি সেলাই মেশিন ও ৮০ হাজার টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী। আদিবাসী নারীরা নিজস্ব পদ্ধতিতে নিরলসভাবে শ্রমদিয়ে তৈরি করে যাচ্ছে নানা ধরনের জামা ও শাড়ি। এসব জামা-কাপড় বিক্রিও হচ্ছে। একটু প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, তাহলে তারা এখানে মিনি গার্মেন্টস সৃষ্টি করতে পারবে। বিষয়টি মাথায় আসে হবিগঞ্জ-সিলেট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য এডঃ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর। তাই তিনি অনেক চেষ্টা করে যুব উন্নয়নের মাধ্যমে এ পুঞ্জিতে সেলাই প্রশিণের ব্যবস্থা করে দেন। সরকারী বরাদ্দে ১৫দিন ব্যাপি পুঞ্জির নিকটবর্তী কালিগজিয়া স্কুলে পুঞ্জির আদিবাসী ২০ জন নারীকে নিয়ে সেলাই বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণে এসব নারীরা বলেন, ‘আমরা পাহাড়ে নানাভাবে বঞ্চিত ছিলাম। এ প্রশিক্ষণ যেমন আমাদের সম্মানিত করেছে, তেমনি কর্মসংস্থানের পথও বের করে দিয়েছে। আমরা এ প্রশিক্ষণ নিয়ে পাহাড়েই মিনি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করব। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন কেয়া চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ দিয়ে আমার কাজ শেষ নয়, তাদের (আদিবাসী নারীদের) জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দেব। কেয়া চৌধুরী তাদের ২০ জনের মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ে শিল্পী রানী দেববর্মা, স্বপ্না রানী দেববর্মা, স্বপ্না দেববর্মা, মিনুকা দেব বর্মার প্রত্যেককে ২০ হাজার করে ৮০ হাজার টাকার চেক ও ৪টি সেলাই মেশিন ছাড়াও অপর এক আদিবাসী নারীকে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করেন। এ ৫ নারীর মাধ্যমে অন্যরা কাজ করে এ পাহাড়ে গড়ে তুলবে মিনি গার্মেন্টস। এমপি কেয়া চৌধুরী তাদেরকে পরামর্শ দেন, এখানে নারী কল্যাণ সমিতি গঠন করার জন্য। এ সমিতির মাধ্যমে তাদের তৈরি হবে কর্মসংস্থান। তিনি বলেন এখানের তৈরি কাপড় ব্যাপকভাবে বাজারজাত হলে যেমন করে আদিবাসীরা উপকৃত হবে, তেমনি দেশও এগিয়ে যাবে। এখানের তৈরি কাপড় যাবে বাইরের দেশেও। আদিবাসী নারীরা জানান, যুগ যুগ ধরে তারা এ পাহাড়ে বসবাস করে তাঁত দিয়ে নানা ধরনের জামা-কাপড় তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকি কাপড় বিক্রি করে দিচ্ছে। তাঁতগুলো পুরনো হয়ে গেলেও তারা এ পেশাকে ধরে রেখেছে। এখন এ শিল্পকে আরো এগিয়ে নেবে প্রাপ্ত ঋণের টাকা ও সেলাই মেশিনগুলো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com