মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ আর্থিক সংকটে চারটি চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। বকেয়া মজুরি, রেশন, উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবিতে গতকাল সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে কাজে যাননি শ্রমিকরা। এতে মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এবং চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচান, মৌলভীবাজারের মৃতিঙ্গা চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত সপ্তাহে নিয়মিত সাপ্তাহিক তলবি (মজুরি) দেওয়া হয়নি ফলে ৪ বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের কারণে তারা সংকটে রয়েছেন। ২০১৮ সালের পর থেকে দেউন্দি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগান ব্যাংক ঋণ পায়নি। নোয়াপাড়া চা বাগানে টাকার অভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্রায় তিন বছর কারখানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এছাড়া লালচান চা বাগানের কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনাও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, “চারটি বাগানেই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে। শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পাচ্ছেন না। তাই গতকাল সোমবার তারা কর্মবিরতি পালন করেছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে আপাতত সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, “২০২২ সাল থেকে মালিকপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ বলেন, “টানা লোকসানের কারণে চারটি বাগান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সংকটের সময় আমরা আংশিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম, কিন্তু শ্রমিকরা তা গ্রহণ করেননি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা চলছে। আশা করছি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।”