বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

মাধবপুরে পিতার মৃত্যুর দেড় বছর পরও নিকাহ রেজিষ্টারের বই দিচ্ছেন না পুত্র বাহা উদ্দিন

  • আপডেট টাইম বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৫২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাধবপুরের নয়াপাড়া ইউনিয়নের কাজী মারা যাবার দেড় বছর অতিবাহিত হরেও নতুন নিযুক্ত কাজীর নিকট বই হস্তান্তর করছেন না মরহুম কাজী সালাহ উদ্দিনের পুত্র বাহা উদ্দিন। এ বিষয়ে একাধিক পত্র দিলেও তিনি তা মানছেন না।
মাধবপুরের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার (কাজী) ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহেমদ। তিনি ২০২২ইং সনের ১৮ সেপ্টেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। পিতার মৃত্যুর পরও বিবাহ ও তালাক রেজিস্টারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তার পুত্র বাহা উদ্দিন। বিষয়টি নিয়ে তখন বেশ বিতর্ক হয়।
পরবর্তীতে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্টার নিয়োগের জন্য আবেদন করেন ইটাখলা গ্রামের শাহ আবিদুর রহমান। ২০২২ইং সনের ১৩ নভেম্বর আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মুরাদ জাহান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে শাহ আবিদুর রহমানকে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টার (কাজী) হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোনো নিকাহ রেজিস্টারের মৃত্যু হলে বা তিনি পদচ্যুত হলে বা অন্য কোনো কারণে তিনি নিকাহ রেজিস্টার হিসাবে প্রাপ্ত ক্ষমতা হারালে তার কাছে রক্ষতি বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টারের বই তিনি অথবা তার ওয়ারিশানগন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা প্রদান করবেন।
কিন্তু কাজী সালাহ উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বাহা উদ্দিন নিকাহ রেজিস্টারের বই জমা না দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এবং নিজেকে নিকাহ রেজিষ্টার হিসেবে এলাকায় বলে বেড়ান বলে অভিযোগ উঠে। অভিযোগ উঠে দীর্ঘদিনের পুরাতন কাবিননামা তিনি সরবরাহ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। পুরাতন কাবিননামার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মূল বইয়ের সাথে সরবরাহকৃত কাবিননামার মোহরানার টাকা মিল আছে কি না এনিয়েও দেখা দেয় বিতর্ক।
গত ৪ জুন মাধবপুরের সাব রেজিষ্টার নিতেন্দ্র লাল দাস স্বাক্ষরিত এক পত্রে মরহুম কাজী সালাহ উদ্দিনের পুত্র বাহা উদ্দিনকে নিকাহ রেজিস্টারের বই সমজিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু বাহা উদ্দিন এ নির্দেশনা আমলে নেননি। পরবর্তীতে গত ২২ আগষ্ট জেলা রেজিষ্টার এক পত্রে মৃত সালাহ উদ্দিনের ওয়ারিশানের কাছ থেকে জরুরী ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্টারের যাবতীয় কাগজ, বই উদ্ধারের জন্য মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অদ্যাবধি বাহা উদ্দিন নিকাহ রেজিস্টারের নথিপত্র বই সমজিয়ে দেননি।
এ ব্যাপারে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টার (কাজী) শাহ আবিদুর রহমান জানান- আমি সরকারের নিযুক্ত বিবাহ ও তালাক রেজিষ্টার, অন্যদিকে পুরাতন কাবিননামা ও তালাকনামা সরবরাহ করছেন মরহুম কাজী সালাহ উদ্দিনের পুত্র বাহা উদ্দিন। নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারের পুরাতন বই, নথিপত্র ইত্যাদি বুঝিয়ে না দেয়ায় বিভিন্ন সময় আমাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সাব-রেজিষ্টার, জেলা রেজিষ্টারের নির্দেশ না মানা, বাহা উদ্দিনের কাছ থেকে নিকাহ নামা সংক্রান্ত কাগজপত্র উদ্ধার করতে না পারা এক ধরনের ব্যর্থতা হিসাবেই আমি মনে করি। যেহেতু এসব সরকারী ডকুমেন্ট সেহেতু সরকারী উদ্যোগেই তা উদ্ধার হবে বলে আমি আশা করি।
এ ব্যাপারে জেলা রেজিষ্টার মোঃ মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com