স্টাফ রিপোর্টার ॥ সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবী ও অব্যাহত নির্যাতন এবং হুমকীতে অতিষ্ট হয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান শাওন দাস পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে শাওন পালিয়ে যাবার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার পিতা অবনী কুমার দাসের উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের অবনী কুমার দাস পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ায় এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অবনী দাস ও তার ছেলের শাওন দাসের নিকট প্রায়ই চাঁদা দাবী করে। চাঁদার দাবী পুরণ না করলে এরা বিভিন্ন ভাবে হুমকী, হামলা ও নির্যাতন চালায়। এরা পূজা পার্বনে মন্দির ও দেবতা ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে। এমনকি মন্দির আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে। শাওন দাস সহ পরিবারের সদস্যদের প্রাননাশের হুমকী প্রদান করে। অবনী কুমার দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সর্বশেষ সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান শাওন দাসের নিকট সন্ত্রাসীরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। শাওন চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। চাঁদা না দিলে শাওনকে হত্যার হুমকী প্রদান করে। এতে কোন উপায় না দেখে আত্মরক্ষায় শাওন গোপনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। শাওন পালিয়ে যাবার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারা তাদের দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে শাওনের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে। গতকাল ৫ জুন শাওন দাসের পিতা অবনী কুমার দাসকে হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালায়। তাদের পিটুনীতে অবনী দাস গুরুতর আহত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকী দেয়। এবং শাওন দাস ফিরে আসলে তাকেও পিটিয়ে হত্যা করা হবে বলে হুমকী দিয়ে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন অবনী দাসকে উদ্ধার করে। এদিকে সন্ত্রাসীদের ভয়ে অবনী দাস সদর আধুনিক হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করেন। এ অবস্থায় সংখ্যালঘু অবনী কুমার দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
এ ব্যাপারে অবনী কুমার দাস তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।