সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন খোয়াই নদীর ভাঙ্গা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন হুইপ ॥ বিএনপির রাজনীতি করে জনগণের জন্য-জি কে গউছ শায়েস্তাগঞ্জে পুকুরে শুঁটকি ব্যবসায়ীর ভাসমান লাশ উদ্ধার হবিগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তা ও আনসার কমান্ডার পরিচয়ে এক যুবকের প্রতারণা পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ নবীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে আউশে ফলন ভালো দামে সর্বনাশ ॥ ধান চাষে মুখ ফিরাচ্ছেন কৃষক সততা-স্বচ্ছতার সাথে মানুষের কাজ করে যাচ্ছি-সৈয়দ ফয়সল এমপি বাহুবলে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ॥ যান চলাচল বন্ধ হবিগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক আশরাফুর রহমান উজ্জ্বলপুর বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট দুই কক্ষে ৫৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম

খাগাউড়া গ্রামে ৩য় স্ত্রী সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে একা আত্মসাতের চেষ্টা ২য় স্ত্রীর ছেলের ॥ সৎ মা ও ভাই বোনকে হত্যার চেষ্টা

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২
  • ৩৬৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে স্বামী মারা যাওয়ার ৩য় স্ত্রী দুই সন্তানকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি একা আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ২য় স্ত্রীর ছেলে সাইফুর রহমান রিমন। নিজের অবুঝ সন্তানদের সম্পত্তির ভাগ রক্ষার ৩য় স্ত্রী শরীফা আক্তার আদালতের আশ্রয় নিলেও রিমন তা তোয়াক্কা না করে শরীফা আক্তার তার সন্তানদের উপর শুরু করেছেন অমানুষিক নির্যাতন। শরীফা আক্তার জানান, ২০১০ সালে খাগাউড়া গ্রামের হাজী লুৎফুর রহমান বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি আমাকে নিয়ে হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই’র মুখ আবাসিক এলাকার বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের পর তার গর্ভে সামিউর রহমান সালমান ও উম্মে মাইমুনা ওহী নামে তার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তার এক পুত্র কন্যা সন্তান নিয়ে অনেকটা সুখে তাদের সংসার চলছিল। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ হাজী লুৎফুর রহমান মারা যান। তার মৃত্যুর পর ২য় স্ত্রী শাহিনা আক্তারও তার ছেলে সাইফুর রহমান রিমন বাসায় এসে আমার স্বামী সম্পত্তি দখলের জন্য আমার উপর নির্যাতন শুরু করে। তার দলবল নিয়ে আমাকে কয়েক দফা হত্যার চেষ্টা করে। অথচ আমাকে যখন আমার স্বামী বিয়ে করেন তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন তার ১ম স্ত্রী মৃত। প্রথম স্ত্রী ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। ২য় স্ত্রী শাহিনা আক্তার মিলনের শারারিক ও মানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি তাকে ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তালাক প্রদান করেন। এরপর শাহিনা আক্তার তার বাবার বাড়ি লক্ষিপুর জেলার এনায়েতপুরে চলে যান। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর যখন তার ২য় স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও তার সন্তান রিমন বাড়িতে এসে সব সম্পত্তি দখল করতে যান তখন আমাদের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই বিরোধ নিস্পত্তি করতে গিয়ে প্রথমে গ্রামে কয়েক দফা শালিস বৈঠক হয়েছে। কিন্তু রিমন তার মা কোন শালিস বিচারের রায় মানেননি। পরবর্তীতে শরীফা আক্তারের স্বামীর বাসায় তার সকল আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে হবিগঞ্জ মাচেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ শামছু মিয়ার সভাপতিত্বে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয়, তার স্বামী দোকান ভিট ও জমি বিক্রি করে ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধ করার। বাকি যার সম্পত্তি যার ন্যায়্য হিস্যা অনুযায়ী সম্পত্তি ভাগভাটোয়ারা করে নেওয়ার। এছাড়াও ওই বৈঠকে খাগাউড়া পুলিশ ফাঁড়ির শালিসে মুরুব্বীয়ান যে সিদ্ধান্ত দেন সেই সিদ্ধান্ত ও রায় বলবৎ হয় এবং রিমনকে যাবতীয় সম্পত্তির কাগজপত্র ফটোকপি করে শরীফা আক্তারকে দেওয়া কথা বলা হয়। কিন্তু রিমন শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য গত ২৭ এপ্রিল করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক জমি ও বাসা-বাড়ি দখল করতে যায়। এ সময় শরীফা আক্তার বাধা দিলে রিমন তার ও সন্তানদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। হামলায় আমি ও আমার ছেলে মেয়ে আহত হই। আহত অবস্থায় আমাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে আমি অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল আদালত-০১ হবিগঞ্জ একটি মামলা দায়ের করি। এ প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে গত ১৮ জুলাইয়ের ভিতরে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো ওই মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এ দিকে তাদের বিরোধ নিস্পতি ও সম্পত্তি ভাগভাটোয়ারা জন্য ৩০ জুলাই চৌধুরী বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে সর্বশেষ শালিস বৈঠক অনুষ্ঠত হয়। ওই শালিসে পূর্বে সিদ্ধান্ত বহাল হয়। শালিসে হবিগঞ্জ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শামছু মিয়া, খাগাউড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ কুরাইশী মক্কিসহ মুরুব্বীয়ানগন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু রিমন ওই শালিসের সিদ্ধান্তও অমান্য করেন।
শরীফা আক্তার জানান, এছাড়াও তিনি সিনিয়র সহকারি জজ আদালত বানিয়াচং, হবিগঞ্জ এ স্বত্ব আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় রিমন জোরপূর্বক জায়গা দখলের চেষ্টাসহ আমাদের প্রাণনাশের হত্যার হুমকিসহ আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন-রিমন এমন বেয়াদব যারা শালিস করতে তাদেরকেও হুমকি দেয় এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। মান সম্মানের ভয়ে অনেক মুরুব্বীয়ানরা এখন তার বিরুদ্ধে কথা বলা বা শালিস করতে চান না। আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার সন্তানদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে চাই। আমার মৃত স্বামীর ঋণের টাকা পরিশোধ করতে চাই।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com