শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে ॥ জনদূর্ভোগ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা আজ বানিয়াচং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন শহরের বিভিন্ন বাজারে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ নবীগঞ্জের চোখ হারানো আলিফের পরিবারের পাশে এনসিপি ॥ মায়ের খোঁজ নিলেন নেতৃবৃন্দ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার বাহুবলের সাটিয়াজুরি বাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ সমাবেশ মাধবপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ভিকটিম উদ্ধার হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

২৫/৩০টি বাড়ি ভাংচুর লুটপাট ॥ পুলিশের ১৬৫ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ বানিয়াচঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪ মহল্লার সংঘর্ষে আহত শতাধিক

  • আপডেট টাইম শনিবার, ৭ মে, ২০২২
  • ৫৩৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচঙ্গে ছান্দ সর্দারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া ও ছান্দ সর্দার এডঃ নজরুল ইসলাম খানের পক্ষের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২ ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া, তকলিছ মিয়া মেম্বার, আকলু মিয়া, আরজু মিয়া, আফরুজ মিয়া, সাবাজ মিয়া সহ ২৫/৩০ জনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা ওই সব বাড়ি থেকে নগদ টাকা, টিভি ফ্রিজ, গবাদি পশুসহ দামী আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ি থাকা মহিলা ও বৃদ্ধদের মারধর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ইউপি চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়ার ভাই বাচ্চু মিয়াকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আহতরা বানিয়াচং উপজেলা হাসপাতাল, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১২ রাউন্ড শিষা বুলেট ও ২৪ রাউন্ড কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে গতকাল পুলিশ বাদী হয়ে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪৫০/৫১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, বানিয়াচং উপজেলার ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের তোপখানা, দোকানটুলা, সইদ্যারটুলা, মাতাপুর সহ ৭টি মহল্লা নিয়ে একটি ছান্দ রয়েছে। ওই ছান্দের মালিকানাধিন রক্ষীবাউর জলাবন, জলমহালসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার উপরে আয় হয়। ওই টাকা প্রতি বছর ছান্দের তোপখানা, দোকানটুলা, সইদ্যারটুলা ও মাতাপুর মহল্লার লোকজনের মধ্যে বন্টন করা হয়। ওই ছান্দের প্রধান ছিলেন বানিয়াচং উপজেলার ২নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে ওই ছান্দে আরেকটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষের নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার। ইদানিং ইকবাল বাহার পক্ষের লোকজন সৈদ্যারটুলা মহল্লার এডঃ নজরুল ইসলাম খানকে ছান্দ সর্দার হিসেবে ঘোষণা করে। এতে চেয়ারম্যান ধন মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। এরই মাঝে এক পক্ষ জাবর বিল ডাক দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ খবরে উভয় পক্ষ ধাবিত হয় সংঘর্ষের দিকে। ঈদের দিন থেকেই উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি হিসেবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে থাকে। দিনরাত উভয় পক্ষের চলে সলাপরামর্শ। গ্রহণ করে বিভিন্ন পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হতে থাকে। দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উভয় পক্ষ রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে। সংঘর্ষের পাশাপাশি শুরু হয় বিভিন্ন বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট। ২৫/৩০টি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের শিকার হয়। সংঘর্ষকালে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। ইউপি চেয়ারম্যান ধন মিয়া আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুড়েন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট, শিষা বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষকালে বেশ কয়েকজন পুলিশও আাহত হয়েছেন।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এমরান হোসেন জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে পুলিশ ১২৯ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১২ রাউন্ড শিষা বুলেট ও ২৪ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com