লাখাই প্রতিনিধি ॥ লাখাই উপজেলার ৪নং বামৈ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গ্রাম ও গ্রামীণ সড়কগুলোর করুণ অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সংস্কারহীন পড়ে থাকা এসব সড়ক এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের ক্ষেত্রে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হাজী কালন মিয়া বাড়ি থেকে শুরু করে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা চরমে পৌঁছেছে, যা প্রতিদিনের সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে একদম অচল করে তুলেছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে পুরো রাস্তাটি পথচারী ও যানবাহন চলাচলের একদম অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। রাস্তার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি এসব গর্তে জমে থাকায় রাস্তার গভীরতা ও গর্তের অবস্থান বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তের কারণে যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নিয়মিত হেলেদুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালকদের চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে জরুরি চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে। সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে জরুরি প্রয়োজনে কোনো ধরণের যানবাহন, এমনকি জীবন রক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্সও গ্রামে বা এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। এতে বিশেষ করে প্রসূতি ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি সময়ে হাসপাতালে পৌঁছানো ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া চরম দুরূহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রোগীদেরকে খাটিয়া কিংবা কোলে করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়, যা অনেক সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এমন দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে দিনাতিপাত করা এলাকার স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ বাইজিদ মিয়া, মোঃ সাদ্দাম মিয়া, মনিরুল ইসলাম আলমগীর এবং তোফাজ্জল মিয়াসহ আরও অনেকেই চরম ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা ও যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে তারা অতি দ্রুত সড়কটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার কল করায় তিনি ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
?অন্যদিকে, সড়কটির বেহাল দশা এবং স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে লাখাই উপজেলার ৪নং বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুক জানান, সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় বাজেট ও সরকারি বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া যাবে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই জনদুর্ভোগ লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।