স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাত তখন প্রায় ৩টা। হঠাৎ একটি জরুরি ফোন আসে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী রবি কস্তার কাছে। জানানো হয়, একটি বাড়ির বেডরুমে পালঙ্কের নিচের গর্ত থেকে সাপের ফোঁসফোঁস শব্দ শোনা যাচ্ছে। খবর পেয়ে বিষয়টি হবিগঞ্জ বন বিভাগকে জানান তিনি। পরে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুরু করেন সাপ উদ্ধারের কাজ। পরদিন বন বিভাগের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পালঙ্কের নিচে একটি ছোট গর্ত দেখতে পান রবি কস্তা। গর্তটি খুঁড়ে দেখা যায়, ভেতরে প্রায় ২৮টি ডিম নিয়ে অবস্থান করছে একটি মা সাপ। অনেক পরিশ্রমের পর সাপটিকে ডিমসহ নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ডিমগুলোর মধ্যে নতুন প্রাণের বিকাশও শুরু হয়েছে বলে জানান উদ্ধারকর্মী। প্রথমে মা সাপটিকে অবমুক্ত করার কথা ভাবা হলেও ডিমগুলোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে মা সাপ ও ডিমগুলো নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সাপটির জন্য আলাদা পাত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিমগুলো একটি ঝুড়িতে ঠান্ডা মাটির ওপর রেখে কলাপাতা দিয়ে ঢেকে অন্ধকার ও নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে, যাতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায়। রবি কস্তা জানান, মা সাপটির খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাকে তিনটি জীবন্ত লাঠি মাছ দেওয়া হলে সাপটি দুটি খেয়ে ফেলে। বাকি একটি মাছ রেখে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মানুষের বসতবাড়িতে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা করা উচিত নয়। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিমসহ মা সাপ পাওয়া গেলে সতর্কতার সঙ্গে সেটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে মা সাপ ও ডিমগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে মা সাপ ও ছানাগুলোকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীরই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা ও মানবিক আচরণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।