মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে ॥ বানিয়াচং উপজেলার ১৩নং মন্দরী ইউনিয়নের মন্দরী গ্রামে শেখ জাহিদুর রহমান (২৫) নামে এক যুবকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টার দিকে গ্রামের পূর্বপাড়ায় প্রতিপক্ষের বাড়ীর সমানে এই নৃসংশ হত্যাকান্ডে ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডের স্বীকার শেখ জাহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত শেখ লোকমান মিয়ার পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শেখ জাহিদুল মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে মজিদ খানের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী জাহিদুলকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদুলকে তাৎক্ষণিক হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রভাষ কুমার সিংহ, বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ পুলিশের একটি টিম। অনুসন্ধানে জানা যায়, মন্দরী গ্রামের মাহতাব খানের ছেলে মজিদ খান গংদের সাথে হত্যাকান্ডের স্বীকার শেখ জাহিদুল মিয়ার পক্ষের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বে এসব বিষয় নিয়ে শালিস-বিচার হামলার মামলা এবং সংঘের্ষর ঘটনা ঘটেছে। গত ২০১৫ সালে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত শেখ জাহিদুল মিয়ার পক্ষের লোক তার চাচা শেখ জয়নাল মিয়া ও শেখ সাহাব উদ্দিন হত্যাকান্ডের স্বীকার হন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলমনা রয়েছে। এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও ক্লু উদঘাটনে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মন্দরী পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।