স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ শহরে আবারও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দলবেঁধে ঘোরাফেরা, চুরি-ছিনতাই, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরে এক্সার, নাইন এক্সার ও জেক্সারসহ বিভিন্ন নামে কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যরা দলবেঁধে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। বিশেষ করে পলিটেকনিক্যাল স্কুল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর তাদের আনাগোনা বেশি দেখা যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কিশোরের একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো গ্রুপের সদস্য দেশীয় অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করে এবং এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, কিশোরদের একটি অংশ মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দ করে শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। গভীর রাত পর্যন্ত এ ধরনের শব্দে পথচারী ও বাসাবাড়িতে থাকা মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পূজামণ্ডপ ও জনসমাগমস্থল গুলোকে ঘিরে এ ধরনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন কিশোরদের আটক করলেও পরে নানা চাপের কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে আটকের পরও তারা আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে আইনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর শহরের কিছু এলাকায় অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়ে চলাফেরা করতেও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন। পূজাকে কেন্দ্র করে শহরে মানুষের চলাচল ও রাতের ব্যস্ততা বাড়ায় এ সময় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
সচেতন মহলের মতে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, তাদের পরিবারের পাশাপাশি শিা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই পূজাকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত কিশোরদের বিষয়ে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।