চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউএনও ও দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম। গতকাল বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মাধবপুর উপজেলার ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক রয়েছেন। মাত্র দুইজন সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে এতসংখ্যক শিক্ষককে নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন। ইনোভেশনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে সামান্য বাজেটের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এর কার্যকারিতা হবে অনেক ব্যাপক। শিক্ষকদের উপস্থিতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুত এটি বাস্তবায়নের জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেব।” উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেনের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, “স্যারের প্রত্যেকটি ভালো কাজে আমরা সঙ্গে রয়েছি। তবে অনলাইন হাজিরার মাধ্যমে আমরা বর্তমানে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছি। তাই বায়োমেট্রিক হাজিরার বিষয়টি আরও একটু চিন্তা করা উচিত।” স্থানীয় জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলার বিএনপি’র ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমএম গউস বলেন, “বলা সহজ, বাস্তবায়ন করা কঠিন। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি মাইলফলক হতে পারে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি ডোনারদের অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানাই।” এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, “আমি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তবে কাজটি বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহিতা বাড়াতে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।