মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ মাধবপুরে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ৭ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এদের বেশির ভাগই শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতেও শিশুদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অসুস্থ সন্তানকে ঘিরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে বেহাল অবস্থা। শয্যা সংকটের কারণে কয়েকজন শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সন্তানদের পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে সময় কাটাচ্ছেন স্বজনরা। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা আলা উদ্দিনের আট বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা আক্তার শুক্রবার থেকে হামে আক্রান্ত। বাড়িতে চিকিৎসা দেয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আকলিমার বাবা আলা উদ্দিন জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। চিকিৎসক পরীক্ষা করে কয়েকটি ওষুধ লিখে দিয়েছেন, যার বেশির ভাগই বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী নার্স সুবর্ণা রানী জানান, হাসপাতালে মজুত থাকা ওষুধ রোগীদের বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। তবে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একজন রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন হাসপাতালে আসায় ওয়ার্ডে ভিড় বাড়ছে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দিতেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান জানান, হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। রোগীর জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। ফলে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।