স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও তার ভাইকে প্রাণনাশ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন আল-বারাকা কনজিউমার প্রোডাক্টসের পরিচালক শিব্বির আহমেদ।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মোঃ নুরুজ্জামান মিয়া (৪৫)। তিনি হবিগঞ্জ পৌরসভার রাজনগর কবরস্থান রোডের জাহাঙ্গীর টাওয়ারের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আল-বারাকা কনজিউমার প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই মাস আগে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হিসেবে চাকরি নেন নুরুজ্জামান মিয়া। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রতিন্দ্র সূত্রধরের কাছ থেকে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে জনতা ব্যাংক, হবিগঞ্জ শাখায় জমা দেন তিনি।
এরপর একই দিন হারুন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হারুনুর রশিদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক, হবিগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ঢাকার চক মোগলটুলী শাখায় মেসার্স হেদায়েত এন্ড ব্রাদার্সের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য তাকে পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, নুরুজ্জামান মিয়া টাকা গ্রহণ করলেও তা ব্যাংকে জমা দেননি। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্যাংকের জমা ভাউচার চাইলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। মেসার্স হেদায়েত এন্ড ব্রাদার্সের পক্ষ থেকেও তাদের হিসাবে ওই টাকা জমা হয়নি বলে জানানো হয়।
পরে ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় ব্যবসায়ী শিব্বির আহমেদ ও কয়েকজন সাক্ষী নুরুজ্জামান মিয়ার কাছে টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, টাকা জমা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে নুরুজ্জামান মিয়া এমপি-মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন। পাশাপাশি তাদের গুড়া মসলায় ইটের গুড়া মেশানো হয় বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তা পত্রিকায় প্রকাশ করিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মারাত্মক ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এছাড়া সরাসরি ও পরে মোবাইল ফোনে শিব্বির আহমেদ ও তার ভাই, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি-ব্যক্স হবিগঞ্জের সভাপতি মোঃ শামছুল হুদাকে প্রাণনাশের হুমকি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, নুরুজ্জামান মিয়া কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার হুমকি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ২৮ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যব¯’া গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন শিব্বির আহমেদ।