স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘলবাগ গ্রামের হিরা মিয়া ও তার ভাগ্নে জহিরুল ইসলাম সেলিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত দীঘলবাগ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবীণ মুরুব্বী ও গ্রাম প্রধান উসমান আলী এর সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট মুরুব্বী আব্দুল মালেক এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মন্নান, সাবেক মেম্বার হাজী ইউনূস মিয়া, বিশিষ্ট মুরুব্বী সৈয়দ আলী, পীরে কামেল শাহ বদরুল আলম, সর্দার আব্দুল কুদ্দুছ, আব্দুল হামিদ, আমান উদ্দিন, আব্দুল মালেক, আনিসুর রহমান রাজু, সিদ্দিক আলী নিবর্সা মিয়া, গেদন মিয়া, আবেদ আলী, মাস্টার আলাউদ্দিন, কৃষকদল নেতা জামাল হোসেন, বিশিষ্ট মুরুব্বী মাওলানা সালেহ আহমেদ, আফরোজ মিয়া, সাহিদ মিয়া, আব্দুল্লাহ মিয়া, আব্দুল কাইয়ূম, উস্তার মিয়া, রুস্তম আলী, আনোয়ার হোসেন, আরজু মিয়া, আব্দুর রহিম, সফর আলী, মন্নান মিয়াসহ আরো অনেকে। সভায় বক্তারা বলেন-এলাকায় হিরা মিয়া ও তার ভাগ্নে জহিরুল ইসলাম সেলিম এবং হানিফের মদদে গ্রামবাসীর ব্যবহারের বগলাখাল মৌজার ৬১৪ ও ৬২০ দাগের ৯৬ শতক সরকারি ভূমিটি প্রায় ৮ বছর ধরে দখল করে রেখেছিলেন। গ্রামবাসীরা ভূমিটি উদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রচার হয়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসীরা ভূমিটি উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চান। এ প্রেক্ষিতে গত ১৮ মে লুকড়া ভূমি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা মোঃ দিদার হোসেন, সহকারি কর্মকর্তা দেবী প্রসাদ কর সরেজমিনে গিয়ে ভূমিটি দখল মুক্ত করেন। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান সর্দার এম এ মন্নানসহ এলাকার মুরুব্বীয়ান উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে গ্রামবাসী গত ২ জুন ভূমিদস্যু হিরা মিয়া গংদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ ও উদ্ধারকৃত ভূমিটিতে ঈদগাহ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে পর পরই সেলিম, হিরা মিয়া গং গ্রামের নিরীহ লোকজনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভূমি উদ্ধার কাজে যারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এমনকি তাদের গ্রাম ছাড়া করার হুমকি প্রদান করা হয়। এ অবস্থায় ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সেলিম, হিরা মিয়া গংদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় গ্রামবাসী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহনের জন্য হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এর আগে গ্রামবাসী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।