মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
হবিগঞ্জ জুড়ে সিএনজি ভাড়ার নৈরাজ্য মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক উন্নীতকরণে ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বিতরণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সংবর্ধনায় সভায় হুইপ জি কে গউছ ॥ প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে কমলগঞ্জের একজন জামান ইয়ামেনীর বর্ণাঢ্য জীবনী বর্তমান বিএনপি সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী-এমপি ফয়সল ভুয়া পরিচয়ে ভারতে বিয়ে ॥ স্ত্রীর নামে মোটা অংকের ঋণ নিয়ে বানিয়াচংয়ে পালালেন যুবক নবীগঞ্জের লহরজপুরে গ্রামে আলী হায়দর চৌধুরী পিতার স্মৃতির চাদর আকড়ে আছেন মাধবপুরে মোবাইল কোর্র্টে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা হবিগঞ্জ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে করলেন ২ বিচারক শায়েস্তাগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

কমলগঞ্জের একজন জামান ইয়ামেনীর বর্ণাঢ্য জীবনী

  • আপডেট সময় সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

রাজীব দাস ॥ মোহাম্মদ সুজাউজ্জামান (সুমন)। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ০৩নং মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের বাদেশুনাপুর গ্রামের প্রখ্যাত উকিল (এ্যাডভোকেট) বাড়িতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই, আগষ্ট জন্ম গ্রহণ করেন। দাদা হাফেজ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন নাতির নাম রাখেন মোহাম্মদ সুজাউজ্জামান (সুমন)। তার পিতা মোহাম্মদ মাহবুবউজ্জামান (কুতুব) ও মাতা মোছাম্মাৎ মঞ্জুয়ারা বেগম (দুলু)। পিতা/মাতার ঔরসে তারা দুই ভাই ও এক বোন (বোন শিশু অবস্থায় মারা যান)। ভাই ও বোনদের মধ্যে সুজাউজ্জামান (সুমন) ২য়, ভাই মোহাম্মদ শফিউজ্জামান (শফি) বড়। দিন পরে সপ্তাহ, সপ্তাহ পরে মাস, মাস পরে বছর, বছর পরে যুগ এভাবেই শিশু থেকে একসময় কৈশোরে পদার্পণ করেন মোহাম্মদ সুজাউজ্জামান (সুমন)। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে তিনি দ্বীনি শিক্ষাও অর্জন করেন। ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির উপর তার অসম্ভব রকমের আগ্রহ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৯০ ইংরেজি থেকে স্থানীয় সাপ্তাহিক শ্রীমঙ্গলের চিঠি পত্রিকায় ছোট গল্প, কবিতা ও বিভিন্ন বিষয়ে হাতেখড়ি হয়। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন স্থানের সংবাদ সংগ্রহ করে তা স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের কাজ শুরু করেন। এসময়ে লেখক বিভিন্ন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ষান্মাসিক পত্রিকায় অত্যান্ত আগ্রহের সহিত কাজ করতে থাকেন। সংবাদপত্রে কাজের পাশাপাশি তিনি পড়াশোনা, মঞ্চে অভিনয় ইত্যাদি একযোগে চালিয়ে যান। সেই সময় লেখক আত্মকর্ম সংস্থানের জন্য দর্জি ও বাঁশ বেতের কাজে উচ্চ মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে লেখকের পরিচয়ের সুবাধে শ্রীমঙ্গল শহরের মোছাম্মাৎ শিউলী আক্তার এর সাথে ১৯৯৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী শুভ পরিনয়ের মাধ্যমে আবদ্ধ করেন। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারী তিনি প্রথম পুত্র সন্তানের বাবা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ঐ বছরই লেখক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পে চাকুরি লাভ করেন। প্রকল্পে চাকুরি কালীন সময়ে তিনি পিএলসিইএইচডি-১, কয়রা কলরোয়া দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলাতে, উপজেলা ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্তব্য পালন করেন। পরবর্তীতে পিএলসিইএইচডি-১, কুষ্টিয়া মেহেরপুর ঝিনাইদহ ব্রাহ্মণ বাড়িয়া ও সুনামগঞ্জ জেলায় জেলা ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নিষ্টার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। লেখক ভ্রমণ ও তথ্য পিপাসু হওয়ায় দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ওলি আওলিয়াগনের মাজার জিয়ারত সহ অসংখ্য ওলি আওলিয়ার সাথে স্ব শরীরে সাক্ষাৎ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন। সূফী মতাদর্শী মনমানসিকতা লেখকের মনে দারুণ প্রভাব বিস্তার করে। সেই জন্য পরবর্তীতে তিনি পার্থিব জগৎ এর সমস্ত কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ২০১২ সাল থেকে লেখক বৈরাগ্য লাভের জন্য সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে ভালো আছেন। তিনি এযাবৎকাল পর্যন্ত, ‘শেখ মুন্সী শাহ্ সূফী হযরত খাঁজা আব্দুল গফুর চিশতি (রহঃ) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী ও সাধকের সন্ধানে’ নামক দুটি পৃথক বই সহ নানা গবেষণা মূলক প্রতিবেদন রচনা করেছেন। তার লেখা বহু গবেষণা মূলক প্রতিবেদন ও সংবাদ বর্তমান সময়ের বিভিন্ন জাতীয় এবং স্থানীয় মুলধারার গণমাধ্যমে প্রচার প্রকাশ হয়েছে। লেখক শুধু মাত্র লেখালেখি নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি একাধারে একজন *সমাজ সেবক, পরিবেশবাদী, মানবাধিকার কর্মী, সংগঠক, পথশিশু শিক্ষক, আধ্যাত্মিক গবেষক, ইতিহাস বিশ্লেষক ও সাংবাদিক। লেখকের পূর্ণ নামের সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো ‘এম এস জামান।’ (ইয়ামেনী+শাহ্+সূফী) এগুলি হলো লেখকের উপাধি। যাহা উনার নামের আগে পিছে ব্যাবহার করা হয়। ‘শাহ্’ শব্দটি তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন, তার আধ্যাত্মিক ‘গুরু’ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হযরত মাওলানা শাহ্ দেওয়ান মাহবুব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, উরফে শাহ সাহেব হুজুর (রহঃ) এর নিকট থেকে। ‘সূফী’ শব্দটি তিনি আধ্যাত্মিক গবেষনা ও তরিকা পন্থীদের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে, আলোচনা পর্যালোচনা করার কারনে ‘শেখ মোছাম্মাৎ বিবি পারভীন আক্তার (মুজাররাদে মজনু)’ থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন। ‘ইয়ামেনী’ শব্দটি এসেছে, তার পূর্ব পুরুষ ইয়ামেন দেশ থেকে আগত হওয়ায়। ‘মাওলানা হাজী জমশেদ আলী যিনি (শমশেদ আলী)’ নামেও ব্যাপক পরিচিত। তিনি বাংলার আউলিয়া কুল শিরমনী ‘হযরত বাবা শাহ জালাল মুজাররাদে ইয়ামানী (রহঃ) এর সফর সংঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম।’ ভারতের আসামের পাহাড়ে তার পবিত্র মাজার শরিফ আজও বিদ্যমান। এই ভাবেই লেখকের মুল নামের সাথে উপাধি গুলো একত্রে যুক্ত হয়ে, ‘শাহ্ সূফী এম এস জামান ইয়ামেনী’ তে পূর্ণতা লাভ করে। এছাড়াও লেখকের দাদা বাড়ির সহিত প্রখ্যাত ‘সূফী সম্রাট হযরত মৌলানা ইয়াছিন চিশতি (রহঃ)’ এর সাথে রয়েছে রক্তের সম্পর্ক। ভারতের আসামে তাহারও মাজার অবস্থিত। বর্তমানে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখকের নাম ‘শাহ্ সূফী এম এস জামান ইয়ামেনী’ নামে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে। তিনি বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও, লইয়ারকুল গ্রামে অবস্থিত। ‘শেখ মুন্সী শাহ্ সূফী হযরত খাঁজা আব্দুল গফুর চিশতি (রহঃ) এর মাজারের প্রথম ও প্রধান খাদেম এবং একই উপজেলার দক্ষিণ মুসলিমবাগ আ/এ এবং গাজীপুর দিঘির পাড় সংলগ্ন। ‘ফাক্বির ও হাক্বির হযরত শাহ্ হেদায়েত উল্লাহ চিশতী (রহঃ) এর মাজারেরও প্রথম মোতাওয়াল্লী ও প্রধান খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রামনগর মনিপুরী পশ্চিম পাড়ায় নিজস্ব বসতি স্থাপন করেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলায়ও তার পৈতৃক ভিটা বসতি রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com