স্টাফ রিপোর্টার ॥ চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানে শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের সমঝোতা বৈঠক হবে। গতকাল বুধবার দিনভর চেষ্টার পর শ্রমিকদের ধর্মঘট থেকে বিরত রাখা যায়নি। ফলে গত দুই দিনে ৫০ হাজার কেজি গ্রীন লিফ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগান ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকরা গত মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে নামেন। মঙ্গলবার দুপুরে বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভায় ম্যানেজারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। ফলে ভরা মৌসুমে মঙ্গলবার থেকে বাগানের পাতা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার বিষয়টি সুরাহার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চেষ্টা করা হয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক গিয়াস উদ্দিনের উপস্থিতিতে দিনভর আলোচনায়ও কোনো নিস্পত্তি হয়নি। আলোচনায় চা শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় নেতা মাখন লাল কর্মকার, অভিরত বাগতি, স্বপন সাঁওতাল, শিউধনী কর্মী, বিজয় হাজরা, পরেস্কার লেন্ডি, নৃপেন পাল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চা শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা ও বিভিন্ন ভাতার দাবি মেনে নেওয়া হলেও ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবি না মানায় সমঝোতা বৈঠক থেকে চলে আসেন শ্রমিকরা। বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীস দাশ এ প্রতিনিধিকে জানান, সকলেই আশা করছিলেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। এমনিতেই প্রচুর খরার জন্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর ওপর শ্রমিক ধর্মঘট বাগানের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ডেকে এনেছে। একটি সূত্র জানায়, ব্রিটেনের দেউন্দি টি এস্টেট কোম্পানির মালিকানাধীন এ বাগানে ১ হাজার ৩৯৪ শ্রমিক কর্মরত। আগে বাগানের শ্রমিকরা ছিলেন মূর্খ। বর্তমানে তাদের সস্তানরা লেখাপড়া শিখছে। সম্প্রতি বাগানের কম্পাউন্ডার নিয়োগে এক চা শ্রমিকের সস্তান অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তার চাকরি না হওয়ায় চা শ্রমিকদের মাঝে বাগান ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় আন্দোলন। সূত্রে জানা যায়, ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন দেউন্দি চা বাগান অতীতের চেয়ে বর্তমানে অনেক উন্নত করেছেন। তার সাহসী ভূমিকায় বাগানে গাছ চুরি, দুর্নীতি থেকে বিরত রাখছেন। তার দক্ষতায় পরিচয় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন লিখেছেন। বাগানের কিছু স্বার্থন্বেষী মহল স্বার্থ হাসিল করার জন্য বাগান কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে এই ধর্মঘট পালন করে বাগানের অনেক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এই ব্যবস্থাপককে তারিয়ে দিলে বাগানের ক্ষতি সাধন হবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে।