স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘলবাগে সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। কৃষক দল নেতা জামাল, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শাহিদ, আব্দুল্লাহ মিয়া ও উস্তার মিয়া এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি সচেতন মহলে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে দীঘলবাগ আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা খালেক মিয়ার কন্যা শেফালী বেগম বাদি হয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, কালু মিয়ার ছেলে কাইয়ূম মিয়া (৪৮), আজমান মিয়া (৩০), আশিক মিয়া (২৫), আনোয়ার মিয়া (২২), মোহশাদ আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৪০), উছমাণ গণির ছেলে সাইফুল ইসলাম শাহীদ (৪৫), জিতু মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া (৪০), আব্দুল ছোবান ফটা মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ মিয়া (৫০), আব্দুল জলিলের ছেলে উস্তার মিয়া (৫০)।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্ধ পাওয়ার পর সেখানে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন শেফালী বেগম। একই প্রকল্পে বসবাস করে আসছেন অভিযুক্তরা। তারা সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর জোরে দখল করে রেখেছেন। অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা জামাল মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শাহীদ, আব্দুল্লাহ মিয়া ও উস্তার মিয়া আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করে সেখানে বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া কাইয়ূম মিয়ার এই গ্রামে নিজের বাড়ি ঘর থাকা সত্বেও কয়েকটি ঘর দখল করে রেখেছে। এছাড়া ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ মিয়া বড়ইউরি গ্রামের নিজের বাড়ি ঘর থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাব বিস্তার করে তার নামে একটি ঘর নেন, এই ঘরে নিজে থাকেন না। সোহেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ফরিদ মিয়ার কাছ থেকে ঘরটি ভাড়া নিয়ে অনৈতিক কাজ করে আসছে। যার ফলে ছেলে মেয়ে নিয়ে শেফালী বেগমের সেখানে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাদের অসামাজিক কাজে বাঁধা দিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, সেখানে বসবাসরত আরেকটি মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সেও থানায় মামলা দেয়। অভিযুক্তদের ভয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক পরিবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। যারা বর্তমানে বসবাস করছেন, তাদেরও এখন একই অবস্থা।
অবৈধভাবে সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি জোর দাবী জানিয়েছেন।