বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
শহরে চাঁদের হাসি হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ॥ গোলাম মোস্তফা রফিক’র মৃত্যু ॥ তদন্ত কমিটি গঠন ॥ আজ মঙ্গলবার ২টায় কেন্দ্রীয় ইদগাহে জানাযা ॥ বিভিন্ন মহলের শোক ১৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন গ্রকল্প গ্রহণ হবিগঞ্জে হুইপ জি কে গউছের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে পৌরসভা ও ৩ উপজেলা বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুতে হুইপ জি কে গউছের শোক প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে চা শ্রমিকদের মাঝে ঘরের চাবি প্রদান করেন এমপি ফয়সল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাধবপুরে কৃষি কাজের ট্রাক্টরে বডি সংযোজন করে বালু-মাটি পরিবহন বাহুবলে মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদের ‘মুজতবাচরিত’ প্রকাশনা উৎসব রেমা-কালেঙ্গায় বন বিভাগের অভিযান ॥ মুলি বাঁশ জব্দ বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লস্করপুর এলাকায় আবারো খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙ্গন

নবীগঞ্জে স্বামীর বাড়িতে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের স্বীকার কেয়া রানী তদন্তে পুলিশের পক্ষপাতের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম সোমবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২২৯ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের দ্বারা যৌতুক ও নির্যাতনের স্বীকার গৃহবধু কেয়া রানী দাশ চরম বিপাকে পড়েছেন। বারবার স্বামী রিপন দাশের শারীরিক আঘাতে আক্রান্ত হলে সমাজপতিদের কাছে কোন সু-বিচার না পেয়ে হবিগঞ্জ কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দিতে আদালত থেকে নবীগঞ্জ সমাজসেবা অফিস ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে প্রেরন করা হয়। দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে নবীগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার অঃ দাঃ বিদ্যুৎ দাশ এবং নবীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে বিবাদীদের পক্ষ নিয়ে তদন্তে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড গয়াহরি গ্রামের চা দোকানের কর্মচারী দিজেন্দ্র দাশের কন্যা কেয়া রানী দাশের ৭ বছর পূর্বে বিয়ে হয় কুর্শি ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামের রিপন দাশের সাথে। তাদের ঘরে ২টি সন্তান ও রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নেশাগ্রস্থ রিপন প্রায় সময়ই মাতাল হয়ে তার স্ত্রী কেয়া রানীকে মারপিট করতো এমনকি তার বাপের বাড়ী থেকে নেশার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতো। এরই জের ধরে ২০২৩ইং সালের ১৯ জুলাই রিপন দাশ মাতাল হয়ে তার ভাই ও মায়ের সামনেই কেয়া রানীকে মারধর করতে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে কেয়ার মা জবা রানী দাশ গহরপুর গ্রামে মেয়ের বাড়ীর গিয়ে মারপিটের কারন জানতে চান। এ সময় নেশাগ্রস্থ রিপন তার শাশুরীকে মারপিট করে ঘরে তালাবদ্ধ রাখে। বিষয়টি নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে অবগত করলে থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার স্বপন সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে কেয়া রানী ও তার মা জবা রানীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। পরে এনিয়ে বেশ কয়েকবার শালিস বিচারের চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়ে কেয়া রানী হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হবিগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নবীগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার অঃ দাঃ বিদ্যুৎ কুমার দাশকে দায়িত্ব দেন। বিবাদী রিপন দাশ তদন্ত কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় সুবাধে দায় সাড়াভাবে তদন্ত করে বিবাদী পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নবীগঞ্জ থানায় প্রেরন করলে ওসি কামাল হোসেন মামলার তদন্তভার ওসি তদন্ত দুলাল মিয়াকে প্রদান করেন। দুলাল মিয়া শালিসে নিষ্পত্তির নামে কালক্ষেপন করতে থাকেন। তদন্তকালে মামলার বাদী কেয়া রানী দাশ বিবাদী রিপন দাশের ঘরে তার জীবনের নিরাপত্তা নাই বলে জানান। এ সুযোগে বিবাদী রিপন দাশের সমন্ধী রাহুল দাশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগীতায় উৎকোচের মাধমে ওসি তদন্ত দুলাল মিয়াকে ম্যানেজ করে তদন্ত রিপোর্ট আটকে রাখেন। এর মধ্যে উক্ত মামলার দুটি তারিখও চলে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন না পাঠানোর কারন জানতে চাইলে ওসি তদন্ত দুলাল মিয়া বিষয়টি মীমাংসার অযুহাতে বিভিন্ন টালবাহানা করে গন্যমান্য ব্যক্তিকে জবাব দেন। পরবর্তীতে কয়েকটি তারিখ অতিবাহিত করে বিবাদীরা পক্ষ নিয়ে একটি দায় সাড়া রিপোর্ট হবিগঞ্জ কোর্টে প্রেরন করেন। নিরুপায় হয়ে বাদী কেয়া রানী দাশ আবারো কোর্টে নারাজির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com