বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
হবিগঞ্জ শহরে যানজটে নাকাল মানুষ মন্দরী গ্রামে জায়দুল হত্যা মামলায় ৫ আসামি গ্রেপ্তার ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধে স্বপ্রণোদিত মামলা তদন্তে পিবিআই হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে যোগেন্দ্র কিশোর এন্ড হরেন্দ্র কিশোর স্কুল এন্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ হবিগঞ্জে মেটাল সীডস লিমিটেডের উদ্যোগে ডিলার-রিটেইলার মিট অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ উপজেলার ৯১টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজার ব্যাপক প্রস্তুতি নবীগঞ্জে আ.লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবদলের মিছিল ও পথসভা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুকিবকে সামাজিক সংগঠন এর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান চুনারুঘাটে বিদেশি পিস্তলসহ দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে এসআরবি শায়েস্তাগঞ্জে ২০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২

মাধবপুরে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা চালু হওয়ার পর দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাব্যয় কমার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর একটি অংশ বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে উল্টো অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। এমন অভিযোগ উঠেছে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে রোগীর স্বজনদের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ জুলাই মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু হয়। চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এখানে মোট ২০০টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে ২০০ প্রসূতি এই সেবা পেয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে চালু হওয়া এই সেবা প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হওয়ার কথা। তবে অপারেশনের সময় বিভিন্ন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে অনেক পরিবারকে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য কেন রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান বলেন, “ওটি চার্জ ২ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনের কেবিন ভাড়া ২০০ টাকা। এ ছাড়া কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। তবে সরকারিভাবে কিছু ওষুধপত্রও দেওয়া হয়।” হাসপাতালের অপর একটি সূত্রের দাবি, সব মিলিয়ে একটি সিজারিয়ান অপারেশনে রোগীর পরিবারের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর নির্ভর করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। একটি সিজারিয়ান অপারেশনের আগে সাধারণত প্রসূতির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও অপারেশনের প্রস্তুতি নিতে হয়। অপারেশনের সময় অ্যানেসথেশিয়া, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জীবাণুমুক্ত সামগ্রী, শিরায় দেওয়ার তরল, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও সেলাইয়ের উপকরণসহ বিভিন্ন সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যার জন্যও প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী লাগতে পারে। অপারেশনের পর প্রসূতির জন্য ব্যথানাশক, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক, শিরায় তরল, ক্ষত পরিচর্যার সামগ্রীসহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। নবজাতকের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও ওষুধ লাগতে পারে। তবে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনটি হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হবে এবং কোনটি রোগীর স্বজনকে বাইরে থেকে কিনতে হবে—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক ও নার্সদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক ওষুধ ও সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান বলেন,অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চেষ্টা করি কীভাবে সেবাটা নিশ্চিত করা যায়।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com