স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ১১টায় বাহুবলের মিরপুর বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৪টি চেকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের হাতে এ অর্থ তুলে দেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড.জি.এম. সরফরাজ।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড.জি.এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারী ভূমির মালিকরাও বক্তব্য দেন।
বিতরণ করা চেকগুলোর মধ্যে এল.এ. কেস নং ০৩/২০২২-২৩-এর বিপরীতে ৬টি, ০৫/২০২১-২২-এর বিপরীতে ৩টি, ০৪/২০২৪-২৫-এর বিপরীতে ১টি, ২৮/২০২২-২৩-এর বিপরীতে ১০টি, ০২/২০২১-২২-এর বিপরীতে ১টি, ০৪/২০২১-২২-এর বিপরীতে ২টি এবং ০২/২০২২-২৩-এর বিপরীতে ১টি চেক রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, প্রকল্পটির আওতায় হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৩০টি ভূমি অধিগ্রহণ মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি মামলায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭-এর ধারা ৮-এর উপধারা ৩(ক)-এর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট মামলার ৭০ শতাংশ। আরও পাঁচটি মামলার ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পর্যায়ে রয়েছে। অবশিষ্ট চারটি মামলার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় হবিগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত মোট প্রায় ১৪৯ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের প্রায় ১৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড.জি.এম. সরফরাজ বলেন, প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আইনানুগভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়কের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে।