স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের সাথে জমিদারের মত আচরণ করছেন। ২০০০ সালে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে ২০২৫ সালে টাকা পরিশোধের নোটিশে দেখা যায় ২০১৫-২০১৭ সালের মৌজা রেট ধরা হয়েছে। এতে ভূমি মালিকরা বাজার মূল্য পাওয়া তো অনেক পরে। মৌজা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চারভাগের একভাগও পাচ্ছে না।
মাধবপুর উপজেলায় নোয়াপাডা এলাকায় গতকার রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে মহাসড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন-মাসুম বিল্লাহ, হাজী শফিকুল ইসলাম, শাওন মিয়া, হুমায়ুন আহমেদসহ আরো অনেকে।
মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিমালিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণে সাধারণ মানুষকে জেলা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বক্তারা বলেন ২০১৫ সালের মৌজা দরে মূল্য দিলে তখন দিতে পারতো। ২০২৬ সালে এসে জমির মূল্য শুধু নয় সরকার নির্ধারিত মৌজা অনুযায়ী জমির দামও দ্বিগুণ হয়েছে। ভূমির প্রকৃত মূল্য বর্তমানে মৌজা দর অনুযায়ী পরিশোধের দাবি জানান ভূমি মালিকরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভোগদখলে থাকা জমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই ভূমির প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনা করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং দ্রুত তা পরিশোধের দাবি জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে তারা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন না। তবে তাদের ন্যায্য অধিকার ও সম্পদের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যথায় অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় ভূমিমালিকদের প্রত্যাশা, সরকারের বৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থও সমান গুরুত্ব পাবে এবং তারা তাদের জমির ন্যায্য মূল্য ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবেন না।