স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে যাতায়াতের রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ ও ময়লাযুক্ত পানি প্রবাহিত করা নিয়ে বিরোধের জেরে ভয়ভীতি ও ত্রাসের সৃষ্টি করে আজাদ মিয়া (৩০) নামে এক প্রবাসীর ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় তিন প্রবাসী পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। হামলায় আহত আজাদ মিয়াকে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনগাঁও গ্রামের মৃত হাসিম উল্লাহর তিন ছেলে স্পেন প্রবাসী সজ্জাদুর রহমান ও আজমান উল্লার ছেলে গ্রিস প্রবাসী বাবুল আহমদ শামীম ও লিবিয়া প্রবাসী আজাদ মিয়া। আজাদ মিয়া কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
১৯৮৫ সালে তাজাবাদ মৌজার ৪২৩ খতিয়ানের ২২৭৪, ২২৭৫ ও ২২৭৭ দাগে পৌনে দুই শতক জায়গা আজগর আলী ও চেরাগ আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেন হাসিম উল্লাহ ও আজমান উল্লাহ। ওই জায়গা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসিম উল্লাহর তিন প্রবাসী ছেলের পরিবার ও আত্মীয়স্বজন যাতায়াত করে আসছেন।
সম্প্রতি আজগর আলী ও চেরাগ আলীর উত্তরাধিকারী চান মিয়াসহ তাঁর লোকজন ওই রাস্তার একটি অংশ কেটে ড্রেন নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ওই ড্রেন দিয়ে বাথরুমের ময়লাযুক্ত পানিসহ ময়লা-আবর্জনা প্রবাহিত করার পথ তৈরি করা হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আজাদ মিয়া এর প্রতিবাদ ও আপত্তি জানান।
এ ঘটনার জের ধরে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি ও ত্রাসের সৃষ্টি করে প্রবাসী আজাদ মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করেন।
এরই জের ধরে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ফের প্রতিপক্ষের লোকজন আজাদ মিয়ার ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আজাদ মিয়ার আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স, নগদ ৬৫ হাজার টাকা এবং ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ সময় ঘরে ভাঙচুর করে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
ঘটনার পর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান আজাদ মিয়া। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর তিন প্রবাসী ভাইয়ের বাড়ি থেকে বের হওয়ার ক্রয়কৃত নিজস্ব জায়গায় জোরপূর্বক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেন চান মিয়া ও তাঁর লোকজন। যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ থাকায় পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আজাদ মিয়া।
এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।