স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামীলীগ বা তার কোনো অঙ্গ-সংগঠনের সাথে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই মর্মে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির হবিগঞ্জ জেলা ব্যুরো চিফ ও ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ফয়সল মিয়া। গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমি গণমাধ্যমের সাথে জড়িত থেকে সমাজের অসঙ্গতি ও মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজ আমি নিজেই এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী মহল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার উপর রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি এক চরম অন্যায়, ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে হাজির হয়েছি। আমি দেশবাসী এবং প্রশাসনের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরছি। ১. কৃষক লীগ থেকে পদত্যাগ : আমি এক সময় হবিগঞ্জ পৌর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলাম। তবে আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার নিজ নামের ফেসবুক আইডি ও জেলা কৃষক লীগের বরাবর দরখাস্ত করে বিগত ২০২৩ইং সালেই আমি উক্ত সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ বা তার কোনো অঙ্গ-সংগঠনের কোনো প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে আমার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না এবং নেই। ২. বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পূর্বেই প্রবাস গমন : ২০২৪ইং সালের ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন শুরু হয়, তার অনেক আগেই আমি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে চলে যাই। অর্থাৎ, আন্দোলনের সময় আমি দেশে স্বশরীরে উপস্থিতই ছিলাম না। ৩. দেশে প্রত্যাবর্তন ও বর্তমান পরিস্থিতি : দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে সম্প্রতি ২০২৬ সালে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি। দেশে ফেরার পর থেকেই একটি মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা আমার অতীতের একটি রাজনৈতিক পদকে পুঁজি করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। ৪. মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্র : সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং আন্দোলনের সময় দেশে না থাকা সত্ত্বেও আমাকে বিগত সরকারের দোসর বা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর একটি বড় আঘাত। আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী। আইন ও আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। একজন মানুষ ২০২৩ সালে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করে ২০২৪ সালের আন্দোলনের বহু আগে বিদেশে চলে যাওয়ার পরও, ২০২৬ সালে দেশে ফিরলে তাকে কীভাবে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো যায় ? এটি কি স্রেফ প্রতিহিংসা নয় ? আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি অনতিবিলম্বে আমার বিরুদ্ধে চলা এই নোংরা ষড়যন্ত্র বন্ধ করা হোক এবং তদন্তপূর্বক প্রকৃত সত্য যাচাই করে আমাকে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।