স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নবীগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকায় ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী-স্বজন, পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কের পাশেই রয়েছে বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড। আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি ফার্মেসি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এ পথ দিয়ে চলাচলের সময় অনেককেই নাক-মুখ ঢেকে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা ফেলার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের সামনের এমন পরিবেশে রোগী ও স্বজনদের নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধান ফটকের অদূরেই সড়কের পাশে দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্ন খালের পাশ ঘেঁষে ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। পচে যাওয়া বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়। পথচারীদের অনেককেই নাক-মুখ চেপে ওই স্থান অতিক্রম করতে দেখা যায়। দুর্গন্ধের তীব্রতায় সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকার পাশে দীর্ঘদিন ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে মশা-মাছি ও অন্যান্য বাহকের বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকায় আসা অসুস্থ রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ^াসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য এমন পরিবেশ বাড়তি ভোগান্তির কারণ হতে পারে। শচীন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তারিন বলেন, সিএনজিতে করে নিয়মিত যাতায়াত করি। হাসপাতালের সামনে এলেই তীব্র দুর্গন্ধে অস্বস্তি হয়। শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে এ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত নবীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে যাতায়াতকারী ইমন নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভূগছেন। ময়লার তীব্র দুর্গন্ধ তার জন্য আরও বেশি কষ্টকর। ওই স্থান অতিক্রমের সময় শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয় এবং দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। নবীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা বেগম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পৌর পশুর হাটের পাশে সরকারি খাসজমিতে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।