ছনি আহমেদ চৌধুরী ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার ক্লুলেস সিএনজি চালক তুহিন মিয়া (২৩) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৯ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের বাহুবলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাহুবল উপজেলার ছাইচা শংকরপুর গ্রামের মৃত সন্জব আলীর ছেলে হাসান আলী (২৫) এবং একই গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৭)। এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি যৌথ দল গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার ভুনবীর ইউনিয়নের মাধবপাশা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে তুহিন হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া এক পলাতক আসামি হাসান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, গতকাল রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ দল বাহুবল মডেল থানার ডুবাঔ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তুহিন মিয়া বাহুবল থানার ইছবপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সিএনজিচালক ছিলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে মিরপুর এলাকার একটি গ্যাস পাম্পে যাওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পান। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল এলাকার একটি বাঁশবাগানে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা লাশটি তুহিন মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় তুহিনের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামে পুলিশ ও এসআরবি। মামলার তদন্তে আসামিদের শনাক্ত হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে দুদিনের অভিযানে ক্লুলেস হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।