শরিফ চৌধুরী ॥ সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে দেশের সকল জেলার জন্য ৬৪টি বিশেষ পরিবীক্ষণ দল গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ শাখা থেকে উপসচিব এ. এইচ. এম. মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই পরিবীক্ষণ দল গঠনের কথা জানানো হয়। দেশজুড়ে ৬৪টি জেলার তদারকির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা মনিটরিংয়ের জন্য হবিগঞ্জ জেলারই চার স্থায়ী নাগরিক তথা অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
গঠিত পরিবীক্ষণ দলটিতে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন— পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্মসচিব সামিহা ফেরদৌসী, যিনি এই দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দলের অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ বিভাগের উপসচিব জনাব আল-ইমরান রুহুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মোঃ হারুন-অর-রশিদ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অভিজিৎ সূত্রধর।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিবীক্ষণ দলটি মাঠ পর্যায়ে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে সোলার প্যানেল স্থাপন ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার অগ্রগতি তদারকি করবে এই দল। এছাড়াও, দেশব্যাপী পরিচালিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ এবং প্রতি শনিবারের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন তারা। দলের কাজের সুবিধার্থে দলনেতা সদস্যদের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করবেন। একই সাথে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা, গৃহীত পদক্ষেপ ও সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১৬ তারিখ এবং পরবর্তী মাসের ১ তারিখে নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।
কার্যক্রম পরিচালনাকালে যদি কোনো জেলা বা উপজেলায় পরিবীক্ষণ দলের নিকট কাজের কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তা বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন এবং প্রয়োজনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করবেন। অর্পিত এই দায়িত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করতে পরিবীক্ষণ দলকে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।