স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রবাসী ও তার আত্মীয় স্বজনদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী নুরুল ইসলাম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বলেন, রসুলপুর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও গ্রামের বিভিন্ন নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে গ্রামের অনেক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন মালেক। কয়েকটি মামলায় তিনি নিজে বাদী আবার সাক্ষী হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন নুরুল ইসলাম। মালেকের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
নুরুল ইসলাম বলেন, তার মামা আলাল উদ্দিনের সঙ্গে আব্দুল মালেকের প্রায় ২০ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে আব্দুল মালেক তার স্ত্রী সাফিয়া আক্তারকে বাদী করে আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করিয়েছেন।
তার দাবি, সাফিয়া আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছে টেনু মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকের কাছে তার ভিডিও বক্তব্যও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে শুধু টেনু মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলায় শুধু আলাল উদ্দিনকে আসামি করা হয়। এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানান নুরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই মামলার ৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে আব্দুর রহিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নুরুল ইসলামের দাবি, আব্দুল মালেকের আপন ভাতিজা আব্দুর রহিম। তিনি এফিডেভিটের মাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তার চাচা বাড়িতেই ছিলেন এবং ওই দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নুরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা পায় এবং ঘটনাটি মিথ্যা বলে জানতে পারে। পরে থানা মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয় এবং সেখানে শুধু আলাল উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ কারণে মামলাটি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, বর্তমানে মামলাটি হবিগঞ্জ পিবিআইতে তদন্তাধীন রয়েছে। পিবিআইয়ের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আব্দুল মালেক ২০১৩ সালে নুরুল ইসলাম, আলাল উদ্দিন, উসমান মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই মামলাটি খারিজ হয়ে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া একই গ্রামের বেগমনেছাকে বাদী করে উসমান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রেও আব্দুল মালেকের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম। তার দাবি, ওই মামলাটিও পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে আদালত থেকে খারিজ হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামের আরও কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর অভিযোগও আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম বলেন, ছুটিতে দেশে আসার পর আব্দুল মালেক তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। টাকা না দিলে তাকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে এবং বিদেশে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন প্রবাসী ও রেমিট্যান্সযোদ্ধা। দেশের বাইরে থেকে দীর্ঘদিন কষ্ট করে উপার্জন করে দেশে অর্থ পাঠানোর পর ছুটিতে এসে যদি মামলা, হুমকি ও চাঁদা দাবির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে একজন প্রবাসী নাগরিক কীভাবে নিরাপদে দেশে অবস্থান করবেন, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি।
নুরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের মাধ্যমে কাঙ্খিত ফল না পেয়ে আব্দুল মালেক তার মামা আলাল উদ্দিনের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নারী-সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।