স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদের হুইপ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের সমস্যা অনেক। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নানা সমস্যা নিয়েই আমাদের কাজ শুরু করতে হয়েছে। তবে সম্মিলিতভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তিনি গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন। হুইপ জি কে গউছ আরও বলেন-হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সের সংকট দীর্ঘদিনের। এ সভায় বসেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা ভালো কিছু দেখতে পাব। তিনি বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে ভালো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। শুধু ‘নাই, নাই’ বলে বসে থাকলে হবে না। গত ১৭ বছরে নানা অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিদ্যমান সামর্থ্যের মধ্যেই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুষ্ট লোকের চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। আমরা কোনো দুষ্ট লোককে পৃষ্ঠপোষকতা করব না, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেব না কিংবা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না। যারা গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। অহেতুক মানুষকে বিভ্রান্তকারীরা সমাজের বন্ধু হতে পারে না। নিজের পরিচয় গোপন করে যারা সমাজে ভুল তথ্য ছড়ায়, তারাই প্রকৃত অর্থে দুষ্ট লোক। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভায় হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে-নাইট গার্ডদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, পোশাক না থাকলে চাকরি থাকবে না।
এছাড়া হাসপাতাল এলাকায় মাদক ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালের ভেতরের খালি জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী রেখে যারা পরিবেশ ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আমিনুল হক সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শন কর্মকর্তা উপ-সচিব স্বপন কুমার মন্ডল, জেলা প্রশাসক ড. জি কে সরফরাজ, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্য ডা: জাবেদ জিল্লুল বারী, সিভিল সার্জন রত্নদীপ বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ, গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেওয়ান আনোয়ার, আরএমও ডা: মুবিন উদ্দিন চৌধুরী, ডা: মুজিবুর রহমান পলাশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জিয়াউল হক, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, এডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল, এডভোকেট ফাতেমা ইয়াসিন প্রমুখ।