স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ পিটিআই হোস্টেলে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কেয়ারটেকারসহ কথিত প্রেমিককে আটক করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গত শুক্রবার রাত ১০টায় সদর থানার ওসি জাহিদুল হকের নেতৃত্বে এসআই অভিজিৎ চক্রবর্তীসহ একদল পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে বড় বহুলা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার পুত্র মাহফুজুর রহমান রিমন (২৫) ও কেয়ারটেকার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মৃত কাজল মিয়ার পুত্র নুরুল আমিন (২৮) কে গ্রেফতার করে। এ সময় তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের দিনমুজুর অনু মিয়ার কন্যা (১৬) অভাব অনটনের সংসারে প্রাণ কোম্পানীতে শ্রমিকের কাজ নেয়। এরই মধ্যে রং নম্বরে পরিচয় হয় রিমনের সাথে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রিমন নাসিরনগর থানার ফুটবল খেলোয়াড়। চাঞ্চল্যকর আল আমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় সে আত্মগোপনে থেকে তার বন্ধু পিটিআই’র কেয়ারটেকার নুরুল আমিনের ফোনে ওই কিশোরীকে ২৮ অক্টোবর হবিগঞ্জ আসতে বলে। রাত ৯টার দিকে পিটিআই হোষ্টেলে নুরুল আমিনের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে তাকে বের করে দিয়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে তার পিতা অনু মিয়াকে খবর দেয়। পরে তার পিতা এসে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সদর থানার ওসিকে অবগত করেন। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে অনু মিয়া বাদী হয়ে রিমন ও নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। গতকাল শনিবার বিকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কিশোরীর জবানবন্দি শেষে তার পিতার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে পিটিআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় অপরাধীদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে। সন্ধ্যার পর ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা জমে। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
ওসি জাহিদুল হক জানান, এর আগেও মাদকের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় অভিযান করা হয়েছে। অভিযান নিয়মিত চলবে।