সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

নবীগঞ্জে সংস্কারের অবহেলায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রুস্তমপুরের দুই বাইপাস সড়ক

  • আপডেট সময় রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর টোলপ্লাজার পূর্ব ও পশ্চিম পাশে নির্মিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক সংস্কারের অভাবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে মহাসড়কের উপর ছোট যানবাহনের চাপ কমাতে নির্মিত সড়ক দুটি এখন কোনো কাজেই আসছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনচালক ও নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়ক দুটি শেওলা, কাদা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ভাঙন ও বড় বড় ফাটল। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের টোলপ্লাজা দিয়ে চলাচল করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রুস্তমপুর এলাকায় টোল আদায়ের জন্য একটি টোল বক্স রয়েছে। এর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে ছোট যানবাহনের জন্য দুটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করলে ছোট যানবাহনগুলো টোলপ্লাজা এড়িয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারে। এতে একদিকে টোলের বাড়তি খরচ কমে, অন্যদিকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপও কমে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিলে সংস্কারের জন্য এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমানে সড়ক দুটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
টোলপ্লাজার পাশের ব্যবসায়ী মাসুদ মৃধা বলেন, ছোট ছোট পরিবহনগুলোকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাইপাস দুটি বন্ধ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন কেন এগুলো মেরামত করছেন না, তা বুঝতে পারছি না। দ্রুত সড়ক দুটি সংস্কার করে চালু করা দরকার। অটোরিকশাচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে টোলপ্লাজা পার হতে হয়। একদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, অন্যদিকে টোলের বাড়তি খরচ। পাঁচ বছর ধরে বাইপাস দুটি বন্ধ থাকায় আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, ওই দুটি বাইপাস সড়ক সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীনে। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সওজ কেন সংস্কার করছে না, তা আমাদের জানা নেই। এসব সড়কের কাজে আমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। হবিগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, এগুলো মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের আওতায় চলে গেছে। তাই সংস্কার করা হচ্ছে না।” পাঁচ বছর ধরে সড়ক দুটি বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফাইলপত্র দেখে বলতে হবে কেন সংস্কার হচ্ছে না। দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাইপাস দুটি সংস্কার করে চালু করা হলে ছোট যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কযাত্রা কমবে, টোলের বাড়তি খরচ থেকে তারা রেহাই পাবে এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপরও চাপ কিছুটা কমবে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com