স্টাফ রিপোর্টার ॥ চারদিকে পানি আর পানি। দেখলে মনে হবে যেন পুকুর। কিন্তু এটি আসলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। লাখাই উপজেলার ১৮ নম্বর মুড়িয়াউক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠের চিত্র এটি। বছরের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যালয়ের মাঠটি পানিতে ডুবে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়। আর বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা। এতে হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পানি মাড়িয়েই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এর মধ্যে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক ধরে বিদ্যালয়টিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা চলছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পর্যাপ্ত ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তার চৌধুরী বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে যায়। পানি বের হওয়ার উপযুক্ত কোনো নালা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই পানির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। পানিতে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। আমিও একদিন পানিতে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছি।’
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ের মাঠ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং চারদিকে কাদাপানি জমে থাকে। অনেক সময় কাদাপানিতে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বর্ষার দিনে অনেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। এতে তাদের নিয়মিত পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়টির সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তিনি জানান, উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে থাকার সমস্যা রয়েছে।
লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। সরেজমিন পরিদর্শন করে বিষয়টি দেখব।’দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা নিরসনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উঁচু করার পাশাপাশি স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
শহরে দুই ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে
১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ শহরের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক তদারকিকরণ কমিটি। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তদারকিকরণ কমিটিতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ছিলেন।
পরিদর্শনকালে লাইসেন্স নবায়ন না করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে শায়েস্তানগরের একটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া লাইসেন্স নবায়ন না করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট রাখা এবং পরীক্ষার মূল্য বেশি রাখার কারণে স্বাস্থ্যসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তদারকিকরণ কমিটি প্রতিষ্ঠান দুটির কর্তৃপক্ষকে এসব অনিয়ম সংশোধনের জন্য এক মাস সময় দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অসংগতিগুলো সংশোধন না করলে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।