স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের নিয়ম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। করোনা মহামারির সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের ১৫ দিন পর পর সাাতের সুযোগ দেওয়া হতো। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কয়েক বছর পার হলেও সেই নিয়ম এখনও বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্বজনদের অভিযোগ, বর্তমানে ১৫ দিন পর পর নির্ধারিত সময়ে কারাগারে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বন্দির সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সদস্যরা এতে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তাদের দাবি, কোনো বন্দির শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে দ্রুত কথা বলার প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত সময়ের আগে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া কঠিন। এতে বন্দিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও মানসিক ও আর্থিক চাপে পড়ছেন।
এদিকে কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, এক হাজার টাকা দিলে নির্ধারিত ১৫ দিনের নিয়মের বাইরে প্রতিদিনই বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুধু স্বজনরাই নন, বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আইনজীবীরাও সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ, কাগজপত্র বা আইনি প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় বন্দির সঙ্গে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন হয়। কিন্তু নির্ধারিত সাক্ষাতের নিয়মের কারণে আইনজীবীদেরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির সময়কার নিয়ম এখনও বহাল রাখার কারণে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি অনিয়মের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তারা বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের বর্তমান নিয়ম পুনর্বিবেচনা করে সময় ও সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ঘুষ বা অর্থের বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্দি ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান হবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।