স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী মোস্তাক আহমেদ (২৪) মোহনপুর এলাকার বাসিন্দা। গত ২২ সেপ্টেম্বর তিনি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোহনপুর এলাকায় ১ নম্বর আসামি জামাল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌরসভার রাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ১ নম্বর আসামি জামাল মিয়া বাদীর পিতা মঈনুল ইসলামের রাজমিস্ত্রির কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিককে গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে জামাল মিয়ার সঙ্গে বাদীর পিতার কথা-কাটাকাটি হয়। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের উপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন আসামি লোহার রড দিয়ে বাদীসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বাদীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তুষার নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং কয়েকটি সেলাই দিতে হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আল আমিন, মোবাশ্বির আহমেদ ও রুবেল মিয়াকেও লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। বাদীর অভিযোগ, হামলার পর আসামিরা তাদের হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মামলায় ১ নম্বর আসামি জামাল মিয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের নেতা এবং ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও মামলায় আনা অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।