স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচং উপজেলার ১৩নং মন্দরী ইউনিয়নের মন্দরী গ্রামে শেখ জায়দুল মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সারোয়ার আলম খানকে প্রধান আসামী করে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শেখ জায়দুল মিয়ার মাতা রাহিনুর বেগম বাদী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বানিয়াচং থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর- ১৩। মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছেন- মজিদ খান, বদির মিয়া, শামীম মিয়া, সাইফুল খান, মোহিত খান, মিজান খান, সুমন মিয়া, ওয়ারিস খান, রাহীন মিয়া, সাকিব খান, ফয়সল খান, সফিক খান, শোয়েব খান, সায়েম খান, কিম্মত আলী, দিয়ারিশ খান, সালমান মিয়া, ইয়ামিন মিয়া, মহিন মিয়া, দুলাল মিয়া, পলাশ মিয়া, মতিন মিয়া, সেলিম মিয়া, ফরহাদ মিয়া, রাসেল মিয়া, নুর আলম, আক্তারোজ্জামান খান সহ অজ্ঞাত আরও ২০/২৫ জন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শেখ জায়দুল মিয়া সম্প্রতি মন্দরী গ্রামের খেলার মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বে একখণ্ড জমি ক্রয় করেন। ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে সারোয়ার আলম খান ও মজিদ খান গংদের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন জমিতে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে শেখ জায়দুল মিয়ার সঙ্গে আসামি মজিদ খানের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মজিদ খান গংরা জায়দুলকে হত্যার হুমকি দেয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার জের ধরে গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ইং তারিখে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী সারোয়ার আলম খান স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে বৈঠক করে শেখ জায়দুল মিয়াকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে হত্যার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটের সময় জায়দুল মিয়া মন্দরী গ্রামের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মজিদ খানের বাড়ির দক্ষিণ পাশের সড়কে পৌঁছালে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া আসামিরা তার পথরোধ করে। এজহারে উল্লেখিত অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় মোবাইল ফোনে নির্দেশ পাওয়ার পর কয়েকজন আসামী শেখ জায়দুল মিয়ার দুই হাত ধরে রাখে এবং অন্যরা রামদা, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে খুন হয়েছে নিশ্চিত মর্মে ক্ষান্ত হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত জায়দুল মিয়াকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে এবং পরে দাফন সম্পন্ন করা হয়। মামলার বাদী সারোয়ার আলম খানকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এজহারে উল্লেখিত আসামী সাইফুল খান, দিয়ারিশ খান, আক্তারুজ্জামান খান, সাকিব খান, ইয়ামিন মিয়া, সেলিম মিয়া, সায়েম খান, মিজান খান, কিম্মত আলী, মো. মতিন মিয়া, মহিন মিয়া, মজিদ খান, শফিক খান, শোয়েব খান ও সালমান মিয়াসহ ১৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রকাশ, এজহারে উল্লেখিত কোন কোন আসামীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিগত ২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাদীর দেবর জয়নাল মিয়া ও ভাগ্নে সাহাবুদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে বিচারাধীন আছে।