শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম সহ ১০ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু হুইপ জি কে গউছের প্রচেষ্টায় ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান ঘটবে নবীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত বানিয়াচং উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন আগামীকাল মাধবপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান চুনারুঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ১’শ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির মামলা নবীগঞ্জে পথসভা শেষে বিএনপি ও জাসাস নেতার মধ্যে বাকবিতন্ডা ও সংঘর্ষ ॥ আহত ২০

কোকোর জানাযায় মানুষের ঢল

  • আপডেট টাইম বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৫
  • ৬৭৬ বা পড়া হয়েছে

এক্সপ্রেস রিপোর্ট ॥ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জানাজা শেষে গতকাল রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে। এর আগে গতকাল বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেটে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের আত্মীয়-স্বজন, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী-সমর্থক, বিভিন্ন দলের নেতা ও শুভার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢল নামে। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানাজা পড়ান।
এর আগে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে কোকোর মরদেহ সকালে ঢাকায় আনার পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নেয়া হয় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। সেখানে মা খালেদা জিয়া ছেলেকে দেখার পর অশ্র“সিক্ত শেষবিদায় জানান। সেখান থেকে বিকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে কফিন নেয়া হয় বায়তুল মোকাররম মসজিদে।
কোকোর মরদেহ আনতে তার মামা শামীম এস্কান্দারসহ কয়েকজন স্বজন ও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। গতকাল সকালে মালয়েশিয়া থেকে কফিন নিয়ে রওনা হয়ে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে পৌঁছান তারা। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, গিয়াস কাদের চৌধুরী ও ফজলুল হক মিলনসহ বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। বিমানবন্দর থেকে কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্স খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছায় ১টা ২৫ মিনিটে। কোকোর কফিন রাখা হয় কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে। খালেদা জিয়া কয়েক মিনিট পর দোতলার অফিস কক্ষ থেকে নিচে নেমে ছেলের কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে মারা যান কোকো। রবিবার মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদ নাগারায় তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ কুয়ালালামপুরে একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ছিল। কোকোর মৃত্যুতে সোমবার থেকে তিন দিনের শোক পালন করছে বিএনপি। গতকাল সারাদেশে গায়েবানা জানাজাও হয়েছে।
বিকেল সোয়া পাঁচটায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে কোকোর নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার আগে থেকে বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ ফটক সংলগ্ন সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। উত্তর ফটকে পুরানা পল্টন মোড় থেকে মতিঝিল পর্যন্ত, দক্ষিণে জিরো পয়েন্ট থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ফ্লাইওভার পর্যন্ত পুরো সড়ক ভরে ছিল জানাজায় অংশ নেয়া মানুষে। এরপর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় মসজিদের পশ্চিম পাশে খোলা স্থানে, সাধারণ মানুষের দেখার জন্য খুলে দেয়া হয় কফিনের মুখ। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা ছাড়াও জানাজায় অংশ নেন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ। পৌনে ৬টার দিকে দাফনের জন্য বনানী কবরস্থানের পথে রওনা হয় কোকোর কফিনবাহী আলিফ মেডিক্যাল সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সটি। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে কফিন মসজিদ থেকে বের করতে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। পৌনে ৭টার দিকে বনানী কবরস্থানে নিয়ে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় কোকোকে।
প্রসঙ্গত, বিগত জরুরি অবস্থার সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়া কোকো ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই কর্তৃপক্ষের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যান। সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় চলে যান। স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি ও দুই মেয়েকে নিয়ে সাত বছর ধরে কুয়ালালামপুরে থাকছিলেন তিনি। মুদ্রাপাচারের একটি মামলায় তার সাজা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com