ছনি আহমেদ চৌধুরী ॥ হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন নবীগঞ্জের জয়নাল মিয়া। হাইকোর্ট থেকে জামিনও পেয়েছিলেন তিনি। স্বজনদের অপেক্ষা ছিল যেকোনো সময় কারাগারের দরজা পেরিয়ে আপনজনের কাছে ফিরবেন জয়নাল। কিন্তু সেই মুক্তির মুহূর্ত দেখার আগেই থেমে গেল তার জীবন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জয়নাল মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নে
র বেগমপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। তিনি একই গ্রামের কলেজছাত্র মনজুর মিয়া হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল বেগমপুর গ্রামের একটি সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে খলিলুর রহমান ও হেলাল আহমেদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে খলিলুর রহমানের ছেলে ও নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মনজুর মিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় ওই দিনই জয়নাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এরপর প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারাগারে ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান জয়নাল মিয়া। জামিনের খবর পেয়ে স্বজনদের মধ্যে ফিরেছিল স্বস্তি। অপেক্ষা ছিল শুধু জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর। এরপরই প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষটা হলো না। জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর আগেই শনিবার রাতে বন্দি কক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল মিয়া। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার বেলাল উদ্দিন জানান, বন্দি কক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে জয়নাল মিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।