স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত চার মাস ধরে এসব ওষুধের সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা গ্রহীতারা। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অনুমোদিত ৫৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৯ জন। শূন্য রয়েছে ২৫টি পদ। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে পুরো উপজেলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কার্যালয়ের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ে মোট ১৪ ধরনের পদে ৫৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত জনবল রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৯ জন। সবচেয়ে বেশি জনবল সংকট রয়েছে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে। এ পদে ২৩ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে পাঁচটির মধ্যে দুটি এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে তিনটির মধ্যে একটি পদ শূন্য রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের পাঁচটি পদই পূর্ণ রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের দুটি করে পদ থাকলেও এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে কোনো জনবল নেই। এতে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্যদিকে, গত চার মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। বিশেষ করে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী নারীরা প্রয়োজনীয় ঔষুধ না পেয়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সিলেট আরডব্লিউএইচ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের জন্য ১০ হাজার ৮০০ পিস কনডম এবং ৪ হাজার ৮০০ পাতা ওরাল পিল সরবরাহ করা হয়েছিল। সরবরাহ পাওয়া এসব উপকরণ দ্রুত মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা হয়। তবে এরপর দীর্ঘদিন নতুন করে কোনো ওষুধ ও উপকরণ সরবরাহ না আসায় মাঠপর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে, চলতি বছরের ২২ জুলাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মাধ্যমে নয়জন নারী স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির পাশাপাশি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপকরণ ও ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু কায়সার মো. আব্দুল হাদী বলেন, দীর্ঘ চার মাস ধরে কোনো ধরনের ওষুধ নেই। এ বছরের শেষের দিকে ওষুধ পাওয়া যেতে পারে। এ দপ্তরে অনুমোদিত পদের বিপরীতে অর্ধেকের বেশি জনবল কম রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।