আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় লাখো মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই যেন এখন ‘রোগী’। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে এলেও কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে। ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন। নতুন ভবনে পুরুষ ও গাইনি ওয়ার্ড, পৃথক কেবিন, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং এক্স-রে রুমসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে ভবন নির্মাণের পরও এসব সেবা চালু হয়নি। ফলে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে কোটি টাকার অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে বর্তমানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা ও এক্স-রের মতো মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ। এমনকি রোগী ও স্বজনদের হাত-মুখ ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানিও সবসময় পাওয়া যায় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবন ও অবকাঠামো বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসকের ১৯টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। ফলে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ২৫টি সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। অন্যান্য বিভাগের আরও ১৬টি পদও শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় ৩১ শয্যার জন্য নির্ধারিত সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা দিয়েই কোনোভাবে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম। এতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের ওপর যেমন বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, তেমনি কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের মানুষ। আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন ভবনের প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ, বন্ধ থাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল এবং নতুন ভবনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া জরুরি। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্যও জেলা সদরে ছুটতে হবে না।