মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে ॥ ৪৪ বছর যাবত বিনামূল্যে গরিব ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি, রোগীদের ডাকেই আমার সকালের ঘুম ভাঙে। পরম আত্মতৃপ্তি নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন হবিগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন। এলাকায় যিনি “ডাঃ জীবন” নামে সর্বজন সমাদৃত। বর্তমান সময়ে চিকিৎসা সেবা যখন বাণিজ্যিকীকরণের বেড়াজালে বন্দি, তখন মানবসেবার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এই জননেতা। পেশাগত জীবনে সফল চিকিৎসক হলেও হাওরাঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে তাঁর মূল পরিচয় তিনি এক বিশ্বস্ত ভরসাস্থল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই তিনি এলাকার হাজার হাজার মানুষকে
প্রতিনিয়ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডাঃ জীবন। দলীয় পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সিলেট বিভাগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শুধু ভোটের রাজনীতিতেই নন, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের এই নীরব ও মানবিক সামাজিক কাজের মাধ্যমে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে যখন সাধারণ মানুষ ঘুম থেকে ওঠে না, তখন থেকেই ডাঃ জীবনের বাড়ির আঙিনায় বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসা রোগীরা ভিড় করতে শুরু করেন। আর রোগীদের এই আকুল ডাকই তাঁর প্রতিদিনের ঘুম ভাঙানি গান। কাকডাকা ভোরে উঠেই তিনি কোনো কান্তি বা বিরক্তি ছাড়াই হাসিমুখে স্টেথোস্কোপ হাতে দাঁড়িয়ে যান রোগীদের পাশে। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই রুটিনের কোনো নড়চড় হয়নি। ডাঃ জীবনের এই নিঃস্বার্থ মানবিকতা সম্পর্কে বানিয়াচংয়ের কামালখানী এলাকার সর্দার আরজু মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি, ডাঃ জীবন সাহেব কীভাবে দিন-রাত এক করে গরিব মানুষের সেবা করেন। কোনো টাকা-পয়সা ছাড়া এমন ডাক্তার এই যুগে পাওয়াই কঠিন। ওনার মতো মানুষ এমপি হওয়ায় আমাদের এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষের অনেক বড় একটা ভরসা তৈরি হয়েছে।
নিজের এই দীর্ঘ পথচলা এবং জীবনের দর্শন নিয়ে ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, “খইয়েরপুর অষ্টগ্রামের শহীদ বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক এম আলীম চৌধুরী যিনি আমার নানার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি বাড়ীতে আসলেই অসহায় গরীব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতেই আমি এই মহতী কাজে উৎসাহ পাই। পেশা হিসেবে আমি চিকিৎসাকে বেছে নিয়েছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, ব্যবসা করার জন্য নয়। রোগীদের ডাকে আমার সকালের ঘুম ভাঙার এই অনুভূতি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। আমৃত্যু আমি আমার বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের মানুষের সেবক হয়েই বেঁচে থাকতে চাই।
স্থানীয় জনসাধারণের মতে, ডাঃ জীবন কেবল একজন সংসদ সদস্যই নন, তিনি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের বিপদের পরম বন্ধু। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁর এই সেবামূলক আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি, বরং এলাকার চিকিৎসা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর দায়িত্ববোধ আরও বেড়েছে।
বর্তমান সমাজে যেখানে বিত্ত আর বৈভবের পেছনে মানুষ অন্ধের মতো ছুটছে, সেখানে ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবনের এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য তিনি নৈতিকতা ও মানবিকতার এক জীবন্ত বাতিঘর। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, নির্বাচিত এমপি হিসেবে তিনি বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আগামীতে আরও বড় ও বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবেন।