নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার কুশি ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামে সরকারি ‘বড় খাল’ জলমহাল ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ এবং দীর্ঘদিনের মাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাইয়াপুর গ্রামের সমছু মিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, রাইয়াপুর গ্রামে ‘বড় খাল’ নামে একটি সরকারি খাল রয়েছে। খালটি উন্মুক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সেখান থেকে মাছ আহরণ করে আসছেন। খালটি শুকিয়ে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়া হলে কৃষিকাজে সেচের পানির সংকট তৈরি হতে পারে এবং বোরো ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আশপাশের কৃষকরা খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামারেও খালের পানি ব্যবহৃত হয়। এ কারণে খালটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে ডাকের মাধ্যমে ইজারা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সমছু মিয়ার অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি ‘বড় খাল’ ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবছর খালটি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় ডাক দেওয়া হয়েছে এবং ওই অর্থ সংশ্লিষ্টরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, চলতি বছর খাল থেকে মাছ বিক্রির প্রায় ১২ লাখ টাকা কয়েকজনের কাছে জমা রয়েছে। ওই টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন সমছু মিয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রতি বছর খালটি ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করে এর অর্থ গ্রামের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয় এমন দাবি করে চলতি বছরও খালটি ডাক দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে খালটি ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী সরকারি ‘বড় খাল’ জলমহাল ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধসহ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।