স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে একদল তরুণের উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রোগী ও স্বজনদের জন্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখতে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে একই সঙ্গে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে পৌরসভা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও নেতৃবৃন্দের সক্রিয় উদ্যোগ থাকলে এ ধরনের কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের মাঠে নামতে হতো কি না-এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এক স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বলেন, মানুষের জন্য ভালো কাজ যে-ই করুক, তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত। তরুণদের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে একই সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলদের নিজেদের ভূমিকা নিয়েও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীর অভাব নেই। অথচ পৌরসভা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় উদ্যোগের অভাবে যদি সদর হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে স্বেচ্ছাসেবীদের মাঠে নামতে হয়, তাহলে বিষয়টি কতটা সম্মানের?
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অন্যতম দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হলে মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে স্থানীয় নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে পুরো বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে না দেখে আত্মসমালোচনার জায়গা থেকে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই বক্তব্যে বলা হয়, কেউ ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা রাজনৈতিক সৌজন্য। পাশাপাশি যারা রাষ্ট্র ও জনগণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলছেন, তাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করতে হবে, স্থানীয় নেতৃত্ব এখন থেকেই মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, রাজনীতি শুধু পদ-পদবি, মিছিল-মিটিং কিংবা নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই রাজনীতির অন্যতম বড় পরীক্ষা।
এদিকে তরুণদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হাসপাতালসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।