স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের রাইয়াপুর গ্রামে সরকারি বড় খাল ‘ডাকের মাধ্যমে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়ার’ উদ্যোগ এবং এর অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে রাইয়াপুর গ্রামের সমছু মিয়া গত রবিবার ১২ জনের নাম উল্লেখ করে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হচ্ছেন-রাইয়াপুর গ্রামের এমদাদুল মিয়া (৪৫), শিহাব মিয়া (৫০), দুলাল মিয়া (৩৫), জুবেদ মিয়া (৪০), জাকির মিয়া (৫২), জাবির হোসেন লাল (৪৫), মকবুল মিয়া (৪০), আলী হোসেন (৩৫), সফু মিয়া (৫০), আশিকুল মিয়া (৪০), রাশিকুল মিয়া (৩৫), আব্দুল আহাদ (৪৪) ও আব্দুল মালিক (৫০)। অজ্ঞাতনামা রয়েছেন আরো ৮/১০ জন।
অভিযোগে সমছু মিয়া উল্লেখ করেন, রাইয়াপুর গ্রামের বড় খালটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত রয়েছে। গ্রামের মানুষ দলমত নির্বিশেষে ওই খাল থেকে মাছ আহরণ করে আসছেন। একই সঙ্গে কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন ও হাঁস পালনের ক্ষেত্রেও খালের পানি স্থানীয়দের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসে। অভিযোগে দাবি করা হয়, অভিযুক্তরা একজোট হয়ে সরকারি খালটি মাছ ধরার জন্য প্রায় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকায় ‘ডাক’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ওই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার পরিকল্পনা করছেন। খালটি মাছ ধরার জন্য পানি শুকিয়ে ফেলা হলে স্থানীয় কৃষকরা বোরো মৌসুমে সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও অভিযোগে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা খালের পানি না শুকানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ ও বাধা দিয়ে আসছেন। তবে তারা তা আমলে নিচ্ছেন না। আগামী ১ অক্টোবর খালটি ডাকের মাধ্যমে বিক্রির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে দাবি করে অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেকোনো সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থক। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা সরকারি খাল রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।