স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দুই কিশোরকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে আরও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় দেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-নবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীমতপুর শেখ কবিরের ছেলে শেখ জামাল এবং এলাহী মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাকে শিশু শোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরজনকে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানান আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি কামাল উদ্দিন সেলিম।
পেশকার ফজলু মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীমতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিশু জান্নাত (১০) স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওইদিন মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে শেখ জামালের বাড়ির কাছে পৌঁছালে তাকে মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বলে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘরে নেওয়ার পর শেখ জামাল ও রাজিব মিয়া দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয় দেখিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বাড়ি ফেরার পথে শিশুটি রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে। এ সময় মুমিনা বেগম নামে এক নারী দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর শিশুটি স্বজনদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে ওই বছরের ১৯ আগস্ট দুইজনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে নবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত দুলাল মিয়া চলতি বছরের ৩০ মার্চ দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। ১২ জন স্বাীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কামাল উদ্দিন সেলিম জানান, আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।