স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাউল গানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে অশ্লীল নাচ-গানের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে নারী শিল্পীদের দিয়ে অশালীন পরিবেশনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
এদিকে বাউল গান নিয়ে লেখালেখি করায় সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে বাউল গান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জয়নাল ফকিরের বিরুদ্ধে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল ফকির ‘হবিগঞ্জের সাংবাদিকদের টাকা দিলে এরারে কিনা যায়, দুই টেইক্কা পত্রিকার সাংবাদিক এরা ? লেখুক’ এমন আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন যা প্রকাশ করার নয়।
তাঁর এমন বক্তব্য ঘিরে হবিগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাউল গানের আয়োজনের নামে গভীর রাত পর্যন্ত চলে নাচ-গান। এসব আয়োজনে নারী শিল্পীদের ব্যবহার করে অশ্লীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, জয়নাল ফকিরসহ একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মিত এসব বাউল গানের আয়োজন করে থাকে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, আয়োজকরা সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে এসব আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধম্ভক্তির সাথে প্রচার করছে। অভিযোগ ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাতের পর রাত বাউল গানের নামে অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু সামাজিক পরিবেশকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান, নাচ এবং অশালীন পরিবেশের কারণে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ এসব আয়োজনে আকৃষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় বাউল গান আয়োজন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিরাতেই এসব আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, নিষেধাজ্ঞা বা প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকলে তা উপেক্ষা করে কার প্রভাব ও প্রশ্রয়ে এসব আয়োজন চলছে?
বাউল গানের নামে অশ্লীলতা বন্ধ, রাতের আয়োজন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
জয়নাল ফকিরের বক্তব্যের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।