স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ শহরে যানজট এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বেক রোড বন্ধ থাকা, অটোরিকশা ও টমটমের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামালর উঠানামা করানোর কারণে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমনকি ছুটির দিন শুক্রবারেও যানজট থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর। ১০ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় ৩০ মিনিট।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে ৩০টির বেশি টমটম আটক করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে পৌরসভার এ ধরনের অভিযান আগের মতো চোখে পড়ছে না। ফলে শহরের সড়কগুলোতে দিন দিন বাড়ছে টমটম ও অটোরিকশার চাপ। ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের থানার মোড় থেকে কোর্ট এলাকা পর্যন্ত, কোর্ট এলাকা থেকে কালীবাড়ি এবং শংকরের মুখ থেকে বাজার পর্যন্ত যানজট সবচেয়ে বেশি। এসব সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও গাড়ি আটকে থাকছে দীর্ঘ সময়। এতে জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অন্যদিকে, সড়কের ওপর যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড-আনলোড এবং ফুটপাত দখল করে হকারদের ব্যবসা পরিচালনাও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা সকালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও বিকেল হতে না হতেই আবারও ফুটপাত দখল করে বসছেন হকাররা। ফলে উচ্ছেদ অভিযানেও স্থায়ী কোনো সুফল মিলছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, আগে শুক্রবার ছুটির দিনে শহরের যানজট কিছুটা কম থাকলেও এখন আর ছুটির দিনের অপো করতে হয় না। সপ্তাহের প্রতিদিনই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট লেগে থাকে। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, যানজট নিরসনে টমটম ও অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, নির্দিষ্ট স্থানে মালামাল উঠানামার ব্যবস্থা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। পাশাপাশি পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগকে সমন্বিতভাবে নিয়মিত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় হবিগঞ্জ শহরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।